চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার
বাবা মারা গিয়েছেন ছ'দিন আগে। অশৌচ পালন চলছে। ওই অবস্থায় সাদা কাপড় পরে কী করে ভোটের ডিউটিতে যাবেন? এ জন্য প্রশাসনের কাছে দরবার করেছিলেন কোচবিহারের মাথাভাঙা গ্রামের যোগেন্দ্রনাথ বর্মন। অভিযোগ, তাঁর কথায় কান দেননি আধিকারিকরা।
বুধবার সকালে তিনি কোচবিহার পলিটেকনিকে ডিসিআরসি সেন্টারে এসে কাজ থেকে ছুটি দেওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করেন প্রশাসনিক কর্তাদের। তিনি আশা করেছিলেন, তাঁর পরিস্থিতি দেখে হয়তো ডিউটি করতে হবে না। কিন্তু তা হয়নি। রীতিমতো অন্য ভোটকর্মীদের মতো যাবতীয় সামগ্রী নিয়ে তাঁকেও রওনা হতে হয়েছে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ১৩ নম্বর বুথে। সাদা কাপড় পরা যোগেন্দ্রনাথকে ডিউটিতে যেতে হবে শুনে, অনেকেই ক্ষুব্ধ হন। প্রশাসন সহানুভূতি না দেখিয়ে এমন অমানবিক আচরণ কেন করল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অন্য ভোটকর্মীরা।
কোচবিহার শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বাড়ি যোগেন্দ্রনাথের। ১৬ এপ্রিল তাঁর বাবা মারা যান। পরের দিন মাথাভাঙা সদর মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে বলেন, 'এ অবস্থায় কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে তিনি ডিউটি করতে পারবেন না।' কোনও সুরাহা না হওয়ায় বুধবার গাড়ি ভাড়া করে এসেছিলেন ডিসিআরসি সেন্টারে। সেখানেও কোনও সুরাহা হয়নি।
যোগেন্দ্রনাথ বলেন, 'এখন ফল আর জল খেয়েই ডিউটি করব। এ ভাবেই নিয়ম পালন করতে হবে। মানবিকতার দিক থেকে আমার ডিউটিটা রদ করতে পারত। কিন্তু সেটা করেনি। সাতসকালে ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে গাড়ি রিজার্ভকরে এখানে এসেছি। কোনও লাভহলো না।' মাথাভাঙার এসডিও তথা রিটার্নিং অফিসার সুশোভন মণ্ডল যোগেন্দ্রনাথের বাবার মৃত্যুর কথা শুনেছেন। তাঁর বক্তব্য, 'ওই কর্মীর ভোটের ডিউটি কাটার ক্ষমতা আমার ছিল না। যে বিধানসভা এলাকায় তাঁর ডিউটি পড়েছে সেখানকার রিটার্নিং অফিসারই একমাত্র এটা কাটতে পারতেন। এটা আমার এক্তিয়ার নয়।'