• বালির এই প্রার্থী হয়ে উঠতে চান ‘‌লোকনাথ বাবা’
    আজকাল | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • বিভাস ভট্টাচার্য:‌ হুড়মুড়িয়ে উঠে পড়লেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। বালি বিধানসভা এলাকার লিলুয়া জলার মাঠের কাছে। প্রার্থীর আসার অপেক্ষায় বসে ছিলেন। প্রার্থী আসতেই টুকটুক করে হেঁটে একেবারে সামনে। সেখান থেকেই প্রার্থীর কাছে আবদার, ‘‌এলাকায় মন্দিরটা একটু বড় করে দেবে?’‌ হ্যাঁ হয়ে যাবে, বালি বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৈলাশ মিশ্রর উত্তর। এরপর দর্শকদের মধ্যে থেকে একের পর এক দাবি আসতে থাকে। সবকটা বিষয়েই সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৈলাশ সকলের উদ্দেশে জানান, তাঁর ফোন খোলা থাকে সবসময়। শুধু একবার ফোন করলেই হবে। যে কোনও সমস্যার সমাধানে তিনি এগিয়ে আসতে প্রস্তুত। 

    দলের তরফে প্রার্থী ঘোষণার অনেকদিন আগে থেকেই আপনাকে দেখা যাচ্ছিল বালি বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। দল কি আপনাকে আগেভাগে এই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার খবর জানিয়ে দিয়েছিল?  

    কৈলাশের কথায়, ‘‌প্রথমত আমি কাজ ছাড়া থাকতে পারি না। তাই যেখানেই নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সমস্যা হয়েছে সেখানেই ছুটে গিয়েছি। হ্যাঁ, এটা ঠিক দলের তরফে আমাকে প্রার্থী ঘোষণার দিন দশেক আগে ‘‌সবুজ সঙ্কেত’‌ দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় নাগরিক পরিষেবা নিয়ে আমার নজরদারিটা আরও বেড়ে যায়।’‌ 

    ২০১১ এবং ২০১৬, বালি কেন্দ্রের জন্য যারা তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তাঁরা কেউই বালির ভূমিপুত্র ছিলেন না। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রের জন্য একজন ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার দাবি তুলেছিলেন দলীয় কর্মীরা। তৃণমূলের তরফে শেষপর্যন্ত বালির প্রখ্যাত শিশু চিকিৎসক ডাঃ রানা চ্যাটার্জিকে প্রার্থী করা হয়। কিন্তু এবার তৃণমূল রানা চ্যাটার্জিকে শিবপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে। 

    এলাকায় বিধায়ক ডাঃ রানা চ্যাটার্জির কাজ আপনাকে ভোটের বাক্সে কতটা ‘‌বেনিফিট’‌ দেবে? সরাসরি উত্তর না দিয়ে কৈলাশের দাবি, ‘‌নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে জঞ্জাল নিয়ে এলাকায় সমস্যা ছিল। সেটা এখন প্রায় সমাধান হয়ে গিয়েছে। জল জমার সমস্যাটা এখনও কিছুটা রয়েছে। ওটারও সমাধান হয়ে যাবে।’‌ 

    বালি তো এখন হাওড়া পুরসভার মধ্যে পড়ে। আর দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরসভায় নির্বাচন হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য ত্রুটি তো পুরসভার নয়। ফলে এই সমস্যার জন্য পুরসভা কী করতে পারে? 

    কৈলাশের কথায়, ‘‌কোনও কিছু উন্নয়নের জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। বালি পুরসভাকে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করাটা ছিল এরকমই একটি পরীক্ষামূলক বিষয়ের উদাহরণ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যখন রাজ্য সরকার আবার আলাদা করে নির্বাচন করার উদ্যোগ নেয় তখন এর আগে যিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ছিলেন তাঁর বাধায় সেটা কার্যকর করা যায়নি।’‌

    এসআইএর–এর প্রভাব আপনার এলাকায় কতটা পড়বে? কৈলাশের দাবি, কিছুই নয়। লোক তৃণমূলের উন্নয়নের জন্যই ভোট দেবে। 

    জেতার বিষয়ে কতটা আশাবাদী? ‘‌লিখে রাখুন রেকর্ড ভোটে জিতব। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী কোনও প্রার্থী নেই। আর জেতার পর বালি পুরসভাকে পরিষেবার দিক দিয়ে রাজ্যের সেরা পুরসভা বানাব।’‌ কৈলাশ আত্মবিশ্বাসী।

     
  • Link to this news (আজকাল)