• প্রথম দফায় মরণপণ লড়াই, প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তনের চাবিকাঠি ১৫২ আসনে
    আজ তক | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন। ভোটগ্রহণ ১৫২টি আসনে। কলিঙ্গ, অঙ্গে বিজেপির শাসন। এবার বঙ্গে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু, ওডিশা বা বিহারের মতো লড়াই সহজ নয়। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চতুর্থবার ক্ষমতা ধরে রাখতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। এটা তাই খালি বিধানসভা ভোট নয়! তৃণমূল এবং বিজেপির কাছে মরণপণ যুদ্ধ।        

    এই লড়াইকে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে প্রথম দফার সমীকরণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল ৫৯টিতে। কিন্তু দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের মধ্যে মাত্র ১৮টিতেই থমকে গিয়েছিল তারা। নবান্নের মসনদে পৌঁছতে গেলে বিজেপির জন্য প্রথম দফায় লিড নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, প্রথম দফায় পিছিয়ে পড়লে সামনের পথ আরও কঠিন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের কাছেও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি। ২০২১ সালে এই প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ৯২টিতে জিতেছে তারা। 

    আর দ্বিতীয় দফায় ১৪২টির মধ্যে দখল করেছিল ১২৩টি আসন। এই ছবিটাই বলে দিচ্ছে, তৃণমূল প্রথম দফায় বিজেপিকে আটকে দিতে পারলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ মসৃণ হয়ে যাবে।  

    ২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল বলছে, বাংলায় বিজেপির উত্থান চমকপ্রদ। শূন্য থেকে রাজ্যপাঠ দখলের সম্ভাবনায় চলে গিয়েছে মাত্র ১৫টা বছরেই। চোখ রাখা যাক পরিসংখ্যানের দিকে,  ২০১১ সালে বিজেপি একটি আসনও জিততে পারেনি। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৩। ২০২১ সালে ৭৭। 

    আর প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ধারাবাহিকভাবে ফল করছে বিজেপি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই আসনগুলির মধ্যে ৮৬টিতে লিড নিয়েছিল বিজেপি। ২০২১ বিধানসভায় তারা জিতেছিল ৫৯টি আসন। এরপর ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ৬৪টি আসনে এগিয়ে ছিল তারা। 

    তবে তৃণমূলের পারফরম্যান্সও হেলাফেলার নয়। ২০১১ সালে তারা ৬৮টি আসন জিতেছিল। ২০১৬ সালে সেটা বেড়ে হয় ৮৬। ২০১৯ লোকসভায় ৫৭টি আসনে এগিয়ে ছিল ঘাসফুল শিবির। এরপর ২০২১ সালে জিতেছিল ৯২টি আসন। ২০২৪ সালের লোকসভায় এই আসনগুলির মধ্যে ৭৬টিতে লিড ছিল তাদের। 

    ভোটের আগে উত্তপ্ত হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিও। বিভিন্ন জায়গায় হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ করেছে দুই দলই। সেই সঙ্গে রাজনীতির লড়াইও তুঙ্গে। বাঙালি অস্মিতার প্রসঙ্গ তুলে অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদীকে আক্রণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের প্রচারে এসেছে, মাছ-মাংস খাওয়া থেকে দিল্লির প্রভুত্বের বিষয়গুলি। আবার শাহ-মোদী পাল্টা অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস বদলের প্রসঙ্গ তুলে 'বাংলার পরিচয়' বাঁচানোর ডাক দিয়েছেন।   
     
  • Link to this news (আজ তক)