নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে প্রায় ৮০০ জন নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা ঘিরে কলকাতা হাই কোর্টে তীব্র আইনি লড়াই দেখা গেল। তৃণমূলের করা মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারও তাদের আশঙ্কাকে সমর্থন করে জানিয়ে দিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন’ বা সতর্কতামূলক আটক করার মতো পরিবেশ নেই।
মামলার শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন, কেন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্যদের ‘ট্রাবল মেকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, কোনও স্পষ্ট অপরাধ ছাড়া এভাবে কাউকে চিহ্নিত করা শুধু বেআইনি নয়, গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেও বিপজ্জনক। আদালতে তাঁদের দাবি, মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভিত্তিহীন অভিযোগে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
তৃণমূলের পক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘গ্রেপ্তার করার অধিকার পুলিশের, কোনও কমিশনের নয়। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়া কাউকে আটক করা যায় না। শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে বা আগাম ব্যবস্থা হিসেবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে তা সংবিধানবিরোধী।’ তিনি আরও বলেন, ‘অবাধ ভোট করাতে হলে নিরাপত্তা বাড়ানো উচিত। কিন্তু মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করা উচিত নয়।’
রাজ্যের আইনজীবীও একই সুরে জানান, আইনে ‘ট্রাবল মেকার’ বলে কোনও পরিভাষা নেই। তিনি বলেন, ‘অপরাধ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু আগে থেকেই কাউকে চিহ্নিত করে আটক করার জন্য নির্দিষ্ট আইন থাকা প্রয়োজন। দেশের অখণ্ডতা বা নিরাপত্তা বিপন্ন না হলে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের প্রশ্ন ওঠে না।’
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর দায়িত্ব তাদের। সেই কারণেই সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কমিশনের দাবি, এই ধরনের ব্যবস্থা নতুন নয় এবং অতীতেও বিভিন্ন রাজ্যে তা প্রয়োগ করা হয়েছে। কমিশনের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে এই ধরনের গোপন তথ্য তৃণমূলের হাতে এল। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু রাখতে কিছু গোপনীয়তা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে তারা জানায়, অতীতে ভোটের সময় হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
রাজ্য পুলিশের ডিজির পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, কোনও গুরুতর অপরাধ নথিভুক্ত না হলে আইনগতভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হবে না। এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। তবে রায় এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।