• মমতার আমলে ১০ হাজার কোটির দুর্নীতি হয়েছে, অভিযোগ শাহের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আগের দিন রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন অমিত শাহ। সপ্তগ্রামের জনসভা থেকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ তুললেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে দুর্নীতির পাহাড় তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ‘কাটমানি’র টাকা লুঠ করা হয়েছে। শাহের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই সমস্ত টাকা মানুষের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।

    তাঁর কথায়, ‘যুবক-যুবতী এবং মহিলাদের কাছ থেকে যে টাকা লুঠ হয়েছে। ক্ষমতায় এলে এক এক পয়সার হিসাব নেওয়া হবে।’ তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন ঘটবে। এদিনের সভা থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি ‘সিন্ডিকেট রাজ’ ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে সেই সন্ত্রাসবাদকেও নির্মূল করা হবে বলে আশ্বাস দেন শাহ।

    মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলে রাজ্যের প্রতিটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। যুবসমাজকে লক্ষ্য করে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাহ জানান, প্রতি বছর ১ লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। তাঁর মতে, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে রাজ্যে নতুন শিল্পশহর গড়ে তোলা হবে। যে সব শিল্প প্রতিষ্ঠান রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছে, তাদের ফের আনার চেষ্টা করা হবে।

    শাহের বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, রাজ্যে কেউ যাতে ভোটারদের ভয় দেখাতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশের বিষয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানান তিনি।

    এদিন দমদম উত্তরের জনসভা থেকে কলকাতার ‘হারানো গৌরব’ ফেরানোর ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘দিদি এবং কমিউনিস্টদের রাজত্বে পুরো শহর একপ্রকার বস্তির শহর হয়ে রয়ে গিয়েছে। দেশের এমন বিভিন্ন শহর রয়েছে, যেগুলি বস্তিমুক্ত হতে শুরু করেছে। কিন্তু দিদি এর প্রয়োজন মনে করেন না। তিনি তো বস্তিতে অনুপ্রবেশকারীদের থাকতে দিয়ে নিজের ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করতে চান।’

    গণনার দিন নিয়েও আত্মবিশ্বাসী সুরে বক্তব্য রাখেন শাহ। তিনি বলেন, ফল প্রকাশের দিন দুপুরের মধ্যেই ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটবে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে শাহের এই আক্রমণাত্মক প্রচার এবং আর্থিক প্রতিশ্রুতি শাসক দলের জনমুখী প্রকল্পগুলির পাল্টা কৌশল। বিশেষ করে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা এবং চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা স্পষ্ট। তৃণমূল অবশ্য এই সব অভিযোগকে ‘ভোটের কৌশল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই ধরনের হুঁশিয়ারি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)