আজ প্রথম দফার ভোট, উত্তরবঙ্গে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটার ভাগ্য ঠিক করবেন ২৭৬ প্রার্থীর
বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বদলেছে সমীকরণ। যার জেরে পালটে গিয়েছে ভোটের অঙ্ক। ফলে উত্তরের পাঁচ জেলায় এবার একুশের জেতা আসন ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ বিজেপির। অন্যদিকে, বিপুল জয়ের লক্ষ্য তৃণমূলের।
এই আবহে আজ, বৃহস্পতিবার নজর কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের ভোটে। পাঁচ জেলায় ২৭টি আসনে মোট প্রার্থী ২৭৬ জন। তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটার। উত্তরের এই পাঁচ জেলার হেভিওয়েট প্রার্থী সাতজন। এঁদের কেউ পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ। কেউ নিজের কেরিয়ারে উজ্জ্বল হলেও রাজনীতির ময়দানে পা রেখে এবারই প্রথম ভোটযুদ্ধে শামিল। ফলে আজ দিনভর কীভাবে তাঁরা গণতন্ত্রের ‘মেগা ইভেন্ট’ সামলান, নজর সেদিকেই।
নজরকাড়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিলিগুড়ি কেন্দ্রে তৃণমূলের গৌতম দেব। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। প্রাক্তন মন্ত্রী, শিলিগুড়ির মেয়র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শিলিগুড়ি আসনটি ‘উপহার’ দেওয়াই লক্ষ্য তাঁর। খেলা ও চাকরি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে এবার রাজগঞ্জে প্রার্থী হয়েছেন এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মন। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে জিতে আসছে জোড়াফুল। জয়ের মার্জিনে রেকর্ড গড়তেই প্রচারপর্বে রাজগঞ্জের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছুটেছেন স্বপ্না। রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী বুলুচিক বরাইক মাল বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী। তিনবারের বিধায়ক। চা মহল্লাকে হাতের তালুর মতো চেনেন। সেই চেনা ছকেই নিজের জয় হাসিল করতে বদ্ধপরিকর বুলুচিক। এখানে নাগরাকাটা থেকে দলবদলু সুকরা মুণ্ডাকে নিয়ে এসে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ফলে তাঁকে ঘিরে ক্ষোভ রয়েছে গেরুয়া শিবিরে। কোচবিহারে একাধিক আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক লড়ছেন কোচবিহার দক্ষিণে। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির রথীন্দ্রনাথ বসু। কোচবিহারের সঙ্গে একসময় সম্পর্ক থাকলেও এখন পরিচয় মূলত শিলিগুড়ির নেতা। ফলে ‘বহিরাগত’ তকমা নিয়েই একুশে অল্প মার্জিনে দলের জেতা আসনে লড়তে হচ্ছে তাঁকে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে জেতা আসন মাথাভাঙায় এবার বিজেপির প্রার্থী প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাবলু বর্মন। ফলে চাপে পদ্ম শিবির। দিনহাটায় তৃণমূলের আর এক হেভিওয়েট প্রার্থী বিদায়ী মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তুফানগঞ্জে বিজেপিকে এবার ‘আউট’ করতে তৃণমূল প্রার্থী বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশংকর পাল। উত্তরবঙ্গে একুশের জেতা আসনগুলিতে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই ঘরোয়া কোন্দলে বিদ্ধ হতে হয়েছে বিজেপিকে। যা দেওয়াল তৈরি করেছে প্রচারপর্বেও। সেসব কোনোমতে সামলালেও শেষমেশ ওইসব সিট ধরে রাখাটাই চ্যালেঞ্জ পদ্ম প্রার্থীদের। এই তালিকায় যেমন রয়েছে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, তেমনই রয়েছে নাগরাকাটা, কালচিনি কিংবা কুমারগ্রাম।
বুধবার বিকেলের মধ্যে বুথে পৌঁছে যান ভোটকর্মীরা। বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপ। শেষমুহূর্তে বেশিরভাগ বিধানসভাতেই বেড়েছে স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা। ফলে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। বুথের বাইরে এমনকী বুথে যাওয়ার রাস্তাতেও লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় সেরে রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
কোচবিহারে ৯টি কেন্দ্রে ৯৮ জন প্রার্থী। মোট বুথ ২৬৭৭টি। এর মধ্যে মহিলা পরিচালিত পাঁচশোটি। জেলায় মোতায়েন ১৪৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। আলিপুরদুয়ারে ৫টি আসনে মোট প্রার্থী ৪৫, বুথ ১৪২৩টি। মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র ৩০০টি। রয়েছে ৭৮ কোম্পানি বাহিনী। জলপাইগুড়িতে ৭টি কেন্দ্রে প্রার্থী ৮৫ জন, বুথ ২০৪১টি। মহিলা পরিচালিত ৩৬৫টি। রয়েছে ১১৬ কোম্পানি সেন্ট্রাল ফোর্স। দার্জিলিংয়ে ৫ কেন্দ্রে মোট প্রার্থী ৪১ জন। বুথের সংখ্যা ১৫১৭টি। মহিলা পরিচালিত বুথ ১৩৭টি। রয়েছে ৮৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। কালিম্পংয়ে একটি আসনে প্রার্থী সাতজন। ভোট হবে ২৯৮টি বুথে। রয়েছে ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। • নিজস্ব চিত্র।