• মুর্শিদাবাদ: জেলার ২২ কেন্দ্রে ২২০ জন প্রার্থীর ভাগ্যনির্ধারণ
    বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: আজ, বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে ২২ কেন্দ্রে মোট ২২০ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ৬১৫৯টি। যার মধ্যে ২৩২৮টি সুপার সেন্সেটিভ বুথ আছে। জেলাজুড়ে মোট ৩১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। গতবারের মতো এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মহিলারাই নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছেন। নারীরাই সিদ্ধান্ত নেবেন মুর্শিদাবাদের ২২টি বিধানসভার কোন আসনে কোন দল জিতবে। মুর্শিদাবাদ জেলায় মোট ৫০ লক্ষ ২৬ হাজার ভোটারের মধ্যে ২৪ লক্ষ ৩৭ হাজার মহিলা ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনে এই মহিলা ভোটারই নির্ণায়ক ভূমিকা নেবেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

    তৃণমূল সরকারের জনমুখী প্রকল্পের মধ্যে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মহিলাদের। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, বিধবা ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি শাসকদলকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সমস্ত জনমুখী প্রকল্পের উপভোক্তরা ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের প্রকল্পে মহিলাদের নিশ্চিত আয় বেড়েছে। গ্রামীণ এলাকায় তাঁদের সামাজিকভাবে গুরুত্বও বেড়েছে। ফলে মহিলা ভোট শাসক দলের দিকেই ঝুঁকতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

    এবার নির্বাচনে সব থেকে উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হল বহরমপুর। এসআইআরের পর এখানে পুরুষ ভোটারের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি। বহরমপুরে ১ লক্ষ ২২ হাজার মহিলা ভোটার রয়েছেন। সেখানে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ১৮ হাজার। এছাড়া মুর্শিদাবাদ জেলায় সবথেকে বেশি মহিলা ভোটার রয়েছে ডোমকল এবং জলঙ্গি এই দুটি সীমান্তবর্তী বিধানসভায়। ডোমকল বিধানসভায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৯ হাজার। জলঙ্গি বিধানসভায় মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ লক্ষ ২৬ হাজার। জেলায় সব থেকে কম মহিলা ভোটার সামশেরগঞ্জ ও ফরাক্কা বিধানসভায় রয়েছেন। যদিও সামশেরগঞ্জে পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি। এখানে পুরুষ ভোটার ৭৮ হাজার এবং মহিলা ভোটার  ৮৩ হাজার। ফরাক্কায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৮৮ হাজার। অধিকাংশ বিধানসভায় মহিলাদের এই ভোট মূল ভোটের প্রায় ৫০ শতাংশ। 

    নির্বাচনি সমীকরণ পর্যালোচনা করতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সামনে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে দু’টি ইস্যু। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও যুবসাথী প্রকল্প চালু। গেরুয়া শিবিরের একাংশের মতে, ভোটের আগে এই দু’টি প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কারণ, শাসক তৃণমূল এই সিদ্ধান্তকে রাজ্য সরকারের সাফল্য হিসাবে দেখাতে চেষ্টায় খামতি রাখেনি। তার মোকাবিলা করেই নিজেদের সমর্থনের ঝুলি ভরাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বিজেপিকে। তবে তারাও অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু, তা মহিলাদের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা নিয়ে সংশয়ে আছেন খোদ বিজেপির নেতা-কর্মীরাই। কারণ যে সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে সেখানে মহিলাদের উন্নয়নে এরকম কোনো প্রকল্পই চালু করেনি বিজেপি। তৃণমূলের এই প্রচারে কোণঠাসা পদ্ম শিবির। 

    তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা অশোক দাস বলেন, বিজেপি অনেক লম্ফ ঝম্ফ করছে। শেষ কথা কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বলবেন। তাঁর উন্নয়নমুখী প্রকল্প ও পরিষেবা সমাজের সর্ব স্তরের মানুষকে উপকৃত করেছে। বিশেষ করে মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে নিজেদের আত্মসম্মান ফিরে পাচ্ছেন। সংসারের সামান্য খরচ কিংবা কোনো কেনাকাটির জন্য কারো কাছে হাত পেতে টাকা চাইতে হচ্ছে না। তাঁরা দিদির পক্ষেই ভোট দেবেন বলে আমরা আশাবাদী। 

    বিজেপি নেতা লাল্টু দাস বলেন, অন্নপূর্ণা প্রকল্পের কাজও আমরা দ্রুত চালু করব। কিন্তু, তার আগে এখানে আমাদের সরকারকে সুযোগ দিতে হবে। মানুষের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিজেপি সরকার দরকার। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)