পর্যাপ্ত গাড়ি নেই, বাদুড়ঝোলা হয়ে ভোট দিতে নিজের গ্রামের পথে নবীন-কাজলরা
বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: ভোট বড়ো বালাই! পর্যাপ্ত গাড়ি না মেলায় দ্বিগুণ, তিনগুণ ভাড়ায় বাড়ি ফিরতে হল পরিযায়ী শ্রমিকদের। ভোটের আগের দিন বুধবার রায়গঞ্জের রাস্তায় ছিল না পর্যাপ্ত সংখ্যায় সরকারি ও বেসরকারি বাস, শেয়ার গাড়ি। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর লরিতে চেপে গন্তব্যে পৌঁছতে হল অনেককে।
এসআইআর আবহে কয়েকদিন ধরে ভিনরাজ্য ও জেলায় কর্মরত শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। বুধবার ভোটের আগে অন্তিমলগ্নে রায়গঞ্জে এসে পৌঁছন শয়ে শয়ে পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের গন্তব্য ছিল গঙ্গারামপুর, বালুরঘাট, কালিয়াগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকা। তবে, রায়গঞ্জ থেকে বাড়ি যাওয়ার গাড়ি না পেয়ে ব্যাপক হয়রানির শিকার হলেন তাঁরা। বাধ্য হয়ে কয়েকগুণ ভাড়া দিয়ে লরি, ট্রাকে করে বাড়ি যান শ্রমিকরা।
উত্তর দিনাজপুর বাস মিনিবাস ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্লাবণ প্রামাণিক বলেন, ভোটের জন্য সংগঠনের আওতায় থাকা ১০৫ টি বাসই পুলিশ কিংবা প্রশাসনের হয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন সংগঠনের বাসও ভোটের জন্য কাজ করছে। তাই বুধ এবং বৃহস্পতিবার বেসরকারি বাস পরিষেবা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে আছে। উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং দার্জিলিং জেলার বেসরকারি বাস পরিষেবাও এই দুদিন ব্যাহত হবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশাপাশি নিত্যযাত্রীরাও সমস্যায় পড়েন।
গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা কাজল সরকার কর্মসূত্রে রায়গঞ্জে থাকেন। শহরের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। কাজলের কথায়, মাত্র কয়েকদিন আগে এসআইআর হয়েছে। তাই এবার ভোট দিতেই হবে। বাড়ি ফিরতে শিলিগুড়ি মোড়ে বাসের জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করছি পরিবার নিয়ে। কিন্তু বাস পাইনি। কয়েকটি শেয়ার গাড়ি ভাড়া করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দ্বিগুণ, তিনগুণ ভাড়া চাওয়ায় যেতে পারিনি। শেষপর্যন্ত একটা লরিতে চেপে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছি। একই অভিজ্ঞতা বালুরঘাটের বাসিন্দা সন্তোষ দাসেরও। তাঁর বক্তব্য, ভোটের জন্য সব গাড়ি তুলে নেওয়ায় চরম হয়রানি হল।
কালিয়াগঞ্জের প্রবীণ বাসিন্দা নবীন ঝা বলেন, ডালখোলায় গিয়েছিলাম কাজের জন্য। কিন্তু ভোট আছে বলে তড়িঘড়ি বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলাম। সকালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে বাস ধরে রায়গঞ্জ শহরের শিলিগুড়ি মোড়ে পৌঁছয়। এখানে এসেও একঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। কোনো গাড়ি নেই। শেষপর্যন্ত বাড়ি যেতে তিনগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
ভোটের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বাস তুলে নেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হল শ্রমিক, নিত্য যাত্রীদেরও। বুনিয়াদপুর বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বাস পাননি পরাণ মণ্ডল। বলেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য রায়গঞ্জ যেতে হবে। দু’ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাইনি। শেষ পর্যন্ত টোটো রিজার্ভ করে কালিয়াগঞ্জ পর্যন্ত যেতে হচ্ছে। • বাড়ি ফিরতে ভরসা লরি। - নিজস্ব চিত্র।