ভোটাধিকার হারিয়ে আর্তনাদ, আজ মোদির দিকে তাকিয়ে মতুয়া সমাজ
বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
অগ্নিভ ভৌমিক, বাদকুল্লা: মা-বাবা ও স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে এদেশেই বসবাস করেছেন নদীয়া জেলার বাদকুল্লার বাজপুকুরের বাসিন্দা প্রশান্ত বিশ্বাস। তাঁদের সকলের নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। চাষবাস করে কোনোরকমে দিন চলে এই মতুয়া পরিবারের। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা। ছিন্নমূল হওয়ার দুঃস্বপ্ন আর দেখতে হবে না—এই আশাই এতদিন লালন করে এসেছে তাঁর পরিবার। হতাশার সুরে তিনি এদিন বলেছিলেন, ‘সবার নাম বাদ দিয়ে দিল। বাম সরকারের আমলে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারিনি। তৃণমূল সরকার আসার পর নামটা উঠেছিল। ১৯৭১ সালের জমির দলিল, ছেলের পাসপোর্ট ও জাতিগত শংসাপত্র দেওয়ার পরেও নাম বাদ পড়ল। ভোটটাই থাকল না। রাজনৈতিক দলের খবর রেখে আমাদের আর লাভ কি?’
বিগত কয়েকটি নির্বাচন ধরে প্রশান্ত বিশ্বাসের মতো মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে সিএএ’র মাধ্যমে সুরক্ষা প্রদানের গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে গেরুয়া শিবির। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগেও সীমান্তের নদীয়া জেলায় ভোট প্রচারে এসে নাগরিকত্ব ইস্যুতেই শান দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর দু’বছর পার। ফের নদীয়া সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এবার পরিস্থিতিটা অন্যরকম। এসআইআরের কারণে নদীয়া জেলায় প্রশান্তবাবুর মতো কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। আজ, বৃহস্পতিবার বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচনের দিন কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠের জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। বাতিল হওয়া মতুয়া ভোটারদের নিয়ে কি বলেন, সে দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
নদীয়া জেলায় এসআইআরের কারণে ২ লক্ষ ৮ হাজার বিচারাধীন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নদীয়া দক্ষিণের মতুয়া গড়ে নাম বাদ পড়েছে। রানাঘাট উত্তর পূর্বে ২০,৭৯৬, রানাঘাট দক্ষিণে ১৭,৪১১, রানাঘাট উত্তর পশ্চিমে ১৪,০২৯, চাকদহে ১০,৭৪১, হরিণঘাটায় ১১,৬৮৯ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যা নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। সিএএ’তে আবেদন করলেই মতুয়াদের নাম থাকবে ভোটার তালিকায়, এমন আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি নেতারা। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে নাগরিকত্ব শংসাপত্র প্রদানের কাজেও সেভাবে গতি আসেনি। গত সপ্তাহ পর্যন্ত ৮০ হাজার আবেদনের মধ্যে মাত্র ৭ হাজার আবেদনকারী নাগরিকত্ব পেয়েছেন। মতুয়া মোট ব্যাঙ্কের এই টালামাটাল পরিস্থিতি নিয়ে পদ্ম শিবিরও সিঁদুরে মেঘ দেখছে।
রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী অবশ্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নদীয়ার দুই সাংগঠনিক জেলার ১৪টি বিধানসভার জয় সুনিশ্চিত করবেন। তৃণমূলের সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ কেন্দ্র সরকারের উন্নয়নের উপর ভরসা রাখবে। সেইসঙ্গে নারী সুরক্ষার উপর প্রধানমন্ত্রী বার্তা দেবেন। নদীয়া জেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। আগামী দিনেও পাবেন।’ কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের যুব সভাপতি অয়ন দত্ত বলেন, ‘নির্বাচন এলেই প্রধানমন্ত্রীর বাংলার কথা মনে পড়েছে। লোকসভার নির্বাচনের দু’বছর পর নদীয়া আসছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্য সময় নদীয়াবাসীর কথা বিজেপির মনে পড়ে না। বাংলাকে বঞ্চনা করবে, আর ভোটের সময় ভোট চাইতে আসবে। মানুষ ইভিএমে জবাব দেবে।’