নির্বাচনি বিধি ফাঁকি দিতে টাঙানো ‘ওম’, ‘জয়বাংলা’ লেখা পতাকা
বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: প্রচারপর্ব শেষ হতেই যেন বদলে গেল শহরের কয়েক দিনের চেনা ছন্দ। প্রচার মাইকের শব্দ থেমেছে। কিন্তু আলোচনা থামেনি। আজ ভোট। বুধবার ভোরের ধোঁয়াশা কাটতে না কাটতেই মেদিনীপুর শহরের অলিগলি, মোড়ের চায়ের দোকান, বাজারের আড্ডা-সব জায়গাতেই একটাই আলোচনার বিষয়-নির্বাচন। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কেউ বলছেন ‘এবার কড়াকড়ি বেশি’। এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের নজরদারি যে আগের তুলনায় অনেকটাই কড়া, তা মানছেন প্রায় সকলেই। সরকারি সম্পত্তি ও বুথ সংলগ্ন এলাকায় দলীয় পতাকা লাগানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলিও যে নিজেদের মতো করে পথ খুঁজে নিতে ওস্তাদ। তা আবারও প্রমাণিত হল মেদিনীপুরে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে ‘ওম’ চিহ্ন আঁকা গেরুয়া রঙের পতাকা দিয়ে অনেক জায়গা ঢেকে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলও পাল্টা কৌশল নিয়েছে। তাঁরা কালারফুল রঙের মধ্যে ‘জয় বাংলা’ লিখে পোস্টারিং করেছে। নিয়মের ফাঁক গলে এই সৃজনশীল রাজনৈতিক লড়াই এখন শহরের আলোচনার কেন্দ্রে। স্থানীয় বাসিন্দা চন্দন দাসের কথায়, ওম চিহ্ন থাকলে সেটা ধর্মীয় বিষয় হয়ে যায়। ফলে কমিশন সহজে তা সরাতে পারবে না। আবার ‘জয় বাংলা’ লিখলেও কোনো দলের নাম নেই, সেটাও একধরনের কৌশল। তাঁর কথায় স্পষ্ট, সাধারণ মানুষও রাজনৈতিক রণকৌশলের সূক্ষ্ম দিকগুলিও নজরে রাখছেন।
মেদিনীপুর মানেই ইতিহাস ও সংগ্রামের স্মৃতি। এই মাটি একসময় স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিগর্ভ দিনগুলির সাক্ষী ছিল। ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে এখানকার মানুষ যে লড়াই গড়ে তুলেছিল, তা আজও ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল। একসময় ইংরেজ তাড়াতে নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন বিপ্লবীরা। এতে ইংরেজ বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। এখন মেদিনীপুরের মাটিতে আর অস্ত্র নয়। বরং মানুষের কাছে ব্যালটই লড়াইয়ের হাতিয়ার। শহরের চায়ের দোকানে বসে থাকা প্রবীণ এক নাগরিকের কথায়-এবার লড়াইটা শুধু ভোটের নয়, বুদ্ধিরও। সত্যিই, কৌশল বনাম কৌশলের এই লড়াইয়ে কেউ এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক নেতারাও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইতের দাবি, ওম চিহ্ন বাঙালির সংস্কৃতির অংশ। এর মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই, এটা আমাদের ঐতিহ্য। বাংলার মানুষ ভোট দিয়ে এসেও বলবেন ‘জয় শ্রী রাম’। অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা বলেন, ওম চিহ্ন সবার। কোনো এক দলের নয়। আমরা বিশ্বাস করি মানুষ ‘জয় বাংলা’ বলেই ভোট দিয়ে আসবেন। বাংলা জিতবেই। তাঁর কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, আবার প্রতিপক্ষকে পাল্টা বার্তাও। তবে সমস্ত উত্তাপের মাঝেও সাধারণ মানুষের আশা একটাই-ভোট হোক শান্তিপূর্ণ, উৎসবের মেজাজে।