• মুরারই বিধানসভায় ভোট কিনতে ঘুষ! কাঠগড়ায় কংগ্রেস প্রার্থী সনজিবুর রহমান
    বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভোট কিনতে রাতের অন্ধকারে ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠল কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে। মুরারই বিধানসভা কেন্দ্রের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তৃণমূল প্রার্থী মোশারফ হোসেন। একই সঙ্গে পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধেও কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। জেলা নির্বাচনি আধিকারিক তথা জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, এদিন দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট অফিসারকে তদন্ত করার জন্য বলেছি।

    এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে টিকিট না পেয়ে কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন প্রয়াত বিধায়ক আব্দুর রহমানের ছেলে সঞ্জীবুর রহমান। তৃণমূল সুপ্রিমো বিদায়ী বিধায়ক মোশারফ হোসেনের প্রতিই আস্থা রেখেছেন। ২০২১ সালে তিনি প্রায় ৯৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। গত সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনি জনসভায় ব্যাপক মানুষের ভিড় নিশ্চিতভাবেই তৃণমূল শিবিরের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে সঞ্জীবুর রহমানের প্রার্থী হওয়া কংগ্রেস শিবিরে কিছুটা অক্সিজেন জোগালেও, তৃণমূলের এই বিশাল জয়ের ব্যবধান কমানো তাঁদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকা বিলির অভিযোগে শোরগোল পড়েছে। 

    অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত ১২টা নাগাদ চারচাকা গাড়ি চড়ে কুতুবপুর গ্রামে এসে ভোটারদের নগদ অর্থ বিলি করছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী সঞ্জীবুর রহমান। গাড়িতে কংগ্রেসের লোগো এবং স্টিকার লাগানো ছিল। তৃণমূল প্রার্থী মোশারফ হোসেন বলেন, গ্রামের দলীয় কর্মীদের কাছ থেকে খবর পাওয়া মাত্রই বিষয়টি পুলিশকে জানাই। তাঁরা ঘটনাস্থলেও আসেন, কিন্তু তাঁদের আচরণ অত্যন্ত সন্দেহজনক ছিল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সত্ত্বেও গাড়িতে নগদ অর্থ রয়েছে কি না, সেটা জানতে তল্লাশি চালানো হয়নি। উল্টে ওই প্রার্থীর সঙ্গে কয়েক মিনিট ধরে একান্ত আলাপচারিতায় লিপ্ত থাকতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। তারপরই তাঁকে পালোনোর সুবিধা করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। মোশারফ সাহেব বলেন, পরবর্তী সময়ে তাঁর গাড়িটি পরীক্ষা করতে পুলিশের ব্যর্থতার ভিডিও সহ নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। তিনি প্রার্থীর পাশাপাশি সেই সময় উপস্থিত পুলিশ অফিসারদের আচরণের তদন্ত দাবি করেছেন। 

    মোশারফ সাহেব বলেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কংগ্রেস প্রার্থী। কিন্তু এলাকার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আবারও ভরসা রাখবেন। যদিও কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো টাকা বিলি করতে নয়, কুতুবপুরে এক আত্মীয়র বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিবার বড়। কিন্তু দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। একটা পক্ষ মিম পার্টি করছিল। সেই নিয়েই কথা বলতে গিয়েছিলাম। পুলিশ এসেছিল, পরে চলে যায়। 

    যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, রাত ১২টার সময় আত্মীয়র বাড়িতে যাওয়া এবং সেখানে রাজনৈতিক ‘সেটেলমেন্ট’ করাটা নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। কারণ, নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে বা প্রচারের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে মুভমেন্টের উপর অনেক বিধিনিষেধ থাকে।
  • Link to this news (বর্তমান)