• দুর্গাপুর পূর্ব: হারার ভয়! ওসি বদলের বায়না ধরে যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াতে চান বিজেপি প্রার্থী
    বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ভোটের একদিন আগে প্রার্থীর মুখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা শুনে শোরগোল পড়ল দুর্গাপুরে। কোনো নির্দল বা ছোট দলের প্রার্থী নয়, বক্তা স্বয়ং বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থীর আবদার,‘দুর্গাপুর থানার ও঩সি, কাঁকসা থানার আইটি ও সেখানকার এক সাব ইনস্পেক্টরকে না সরালে নির্বাচনে অংশ নেব কিনা বিবেচনা করব।’ এদিন দুর্গাপুর থানায় ধরনা দিয়ে এই মন্তব্য করেন চন্দ্রশেখর। বিজেপির প্রার্থীর এই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। তাঁদের কটাক্ষ, বিপুল ভোটে পরাজয় নিশ্চিত বুঝে গিয়ে ভোট ময়দান থেকে পিঠটান দিতে চাইছেন বিজেপি প্রার্থী। 

    ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। ভোট প্রচারের শেষ দিন গাড়িতে করে রোড শো করছিলেন বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্গাপুরের জেসি বোস এলাকায় তাঁদের মিছিল যাওয়ার সময়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জয়বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়। পাল্টা জয় শ্রীরাম স্লোগান দেন বিজেপি কর্মীরা। এরপরই স্লোগান, পাল্টা স্লোগান চলতে থাকে। তারপর দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। তৃণমূল অভিযোগ করে, কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে একতরফা ভাবে তাঁদের কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করে। দু’পক্ষই থানায় অভিযোগ করে। পুলিশ দু’টি পৃথক মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তৃণমূলের সাতজন ও বিজেপির তিনজন কর্মীকে দুর্গাপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এতেও গোঁসা হয় বিজেপির। কেন তাঁদের কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ‘দলদাস পুলিশ’ অভিযোগ তুলে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় অনুগামীদের নিয়ে দুর্গাপুর থানায় বিক্ষোভ দেখান। সেখানেই বলেন, ওসি, আইসিকে বদলি করতে হবে। তিনি কাঁকসা থানার এক সাব ইনস্পেক্টরের নাম করে বলেন, সিভিক পুলিশকে দিয়ে বাড়ি বাড়ি মদ ও অর্থ দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের হয়ে ভোট করার জন্য। তাঁদের বদলি না করলে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। 

    চন্দ্রশেখর যখন এই অভিযোগ করছেন, তখন ভোটের ২৪ ঘণ্টার বাকি ছিল না। সেই মুহূর্তে তাঁর এলাকার দু’টি থানার কর্তাদের ভূমিকা নিয়েই আস্থা হারিয়ে ফেলেন বিজেপি প্রার্থী। এতেই তৃণমূল নিজেদের জয়ের আভাস হিসাবে দেখছে। এতদিন চন্দ্রশেখর দাপিয়ে প্রচার করেছেন। বিভিন্ন জাগয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিয়েট প্রার্থী নিয়ে কু’মন্তব্য করারও অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু, সেভাবে পুলিশের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে সরব হননি। তাহলে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস হারিয়েই পুলিশকে দোষারোপ নাকি পুলিশের উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল ছিল, জানা যাবে ৪ মে। 

    দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনই তো বিজেপির। তাতেও স্বস্তি মিলছে না। আমাদের কোনো কিছুতেই উদ্বেগ নেই কারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। পরাজয় নিশ্চিত হলেই অনেকে লড়াই থেকে পালানোর অজুহাত খোঁজে।
  • Link to this news (বর্তমান)