অমিত শাহের সভায় চেয়ার ফাঁকা, রোড-শোয়ে ভিনরাজ্যের মানুষ
বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর, বারাসত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বুধবার দুই ২৪ পরগনায় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একাধিক জনসভা ও রোড-শো ছিল। ভিড়ের বহরে প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার ছক কষেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের অনেক পর সভা করেও চেয়ার ভরতি হল না। কোথাও ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদের মিছিলে হাঁটানো হল। এদিন নিউ বারাকপুর ও হাবড়ার সভা থেকে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তৃণমূলকে আক্রমণ করার পাশাপাশি নিউ বারাকপুর থেকে হাবড়ায় মেট্রো রেল সম্প্রসারণের আশ্বাস দেনঅমিত শাহ।
নিউ বারাকপুরের অগ্রদূত সংঘের মাঠে সকাল ১১টায় অমিত শাহের জনসভার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টায় সভাস্থলের অর্ধেক চেয়ারও ভরতি হয়নি। মঞ্চ থেকে বারবার মাঠ ভরানোর আবেদন জানানো হয়। পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়ে বলা হয়, আমাদের বহু গাড়ি আটকে রয়েছে। আপনারা সহযোগিতা করুন। দুপুর ২টো ২০ মিনিট নাগাদ অমিত শাহ পৌঁছানোর পরও সভাস্থলের পিছনের দিকে বেশ কিছু চেয়ার ফাঁকা থেকে যায়। কেন এমন পরিস্থিতি হল, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিন অমিত শাহ দমদম উত্তরের প্রার্থী সৌরভ শিকদার ও খড়দহের প্রার্থী কল্যাণ চক্রবর্তীর হয়ে প্রচারে এসে ফের অনুপ্রবেশকারীদের বাংলা থেকে তাড়ানোর হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, বছরের পর বছর সন্দেশখালিতে মা-বোনেদের উপর এক অনুপ্রবেশকারী অত্যাচার চালিয়ে গিয়েছে। বাংলার মহিলা মুখ্যমন্ত্রী চুপ ছিলেন কেন? কারণ, সে ছিল অনুপ্রবেশকারী ও তৃণমূলের ক্যাডার। রাজ্যে কাটমানি ও সিন্ডিকেটরাজ নিয়ে অভিযোগ তুলে বলেন, বাড়ি বানানোর ইট, বালি ও সিমেন্ট নিতে হলেও সিন্ডিকেটকে ট্যাক্স দিতে হয়। তিনি আরও দাবি করেন, দেশে অনেক শহর আছে যেখানে এখন বস্তি মুক্ত হচ্ছে। কিন্তু দিদির সে প্রয়োজন নেই। অনুপ্রবেশকারীদের তিনি বস্তিতে বসিয়ে নিজের ‘ভোট ব্যাংক’ তৈরি করতে চান।
এরপর মেট্রো রেলের স্বপ্ন ফেরি করে বলেন, কলকাতা মেট্রোর পথ তিনগুণ বাড়ানো হবে। দমদম ও হাওড়ায় নতুন মেট্রো লাইন হবে। অন্যদিকে, হাবড়ার বাণীপুর চৌমাথা সংলগ্ন আম্বেদকর মাঠের সভাতেও আশানরূপ ভিড় হয়নি। সেখানে দলীয় প্রার্থী দেবদাস মণ্ডল ও অশোকনগরের প্রার্থী সুময় হীরার সমর্থনে সভায় এসে বলেন, হাবড়া ও অশোকনগরে মেট্রো চালু করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এসআইআরে মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে কার্যত নীরব ছিলেন মোদির সেনাপতি।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর স্টেশন থেকে বৈকুণ্ঠপুর পর্যন্ত তিনি রোড-শো করেন। সেখানেও জমাটি ভিড় দেখা যায়নি। সোনারপুর উত্তরের প্রার্থী দেবাশিস ধর ও সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে হওয়া রোড-শো এ ক্যানিং ও ভাঙড় থেকে দলীয় কর্মীদের আনা হয়েছিল। সেখানে হিন্দিভাষী লোকেদেরও দেখা যায়।
অন্যদিকে, এদিন ডানলপের গুরুদ্বারে হাজির ছিলেন রাষ্ট্রমন্ত্রী রভনীত সিং বিট্টু। তাঁকে শিখদের একাংশ কালো পতাকা দেখান।