রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা; ‘বৃহস্পতিবার বিজেপিকে জবাব দেওয়ার প্রথম দিন। তৃণমূলকে উজাড় করা সমর্থন দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে বিজেপির ঘাড়, মাথা, মেরুদণ্ড ভেঙে দিন। দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯ এপ্রিলের ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে বিজেপির কোমর, হাঁটু ভাঙতে হবে। এই দফায় হবে বিজেপির দফারফা।’ সাধারণ মানুষের কাছে এই আবেদন রেখেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নভেম্বর থেকে এপ্রিল—গত সাত মাস ধরে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন মানুষের পাশে সর্বতোভাবে থেকেছে তৃণমূল। অন্য রাজনৈতিক দলগুলি যখন এসআইআর নিয়ে দিশাহারা, তখন মানুষের কণ্ঠস্বরকে লড়াইয়ের ময়দানে নিয়ে এসেছে তৃণমূল। পৌঁছে গিয়েছে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে। তাই মানুষের পাশে যারা রয়েছে, তাদেরই ভোট দেওয়ার আবেদন করছে রাজ্যের শাসক দল। তাদের আরও বক্তব্য, ‘যে বিজেপি মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে, চোখের জল ফেলেছে, সেই বিজেপিকে এবার জবাব দেওয়ার সময়।’ তাই প্রথম দফার ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে নির্বাচনি প্রচার থেকে তৃণমূল সেনাপতির আহ্বান, ‘ভোটের মাধ্যমেই বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। আর তা সম্ভব হবে বিজেপিকে একটিও ভোট না দিয়ে এবং যাবতীয় সমর্থন তৃণমূলকে দিয়ে। বিজেপির গদ্দারদের জমানত বাজেয়াপ্ত করতে হবে।’
আজ, বৃহস্পতিবার ভোটের জন্য তৃণমূলের প্রধান কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটে। ভোর ৫টায় কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। ১৫২টি কেন্দ্রের প্রতি মুহূর্তের আপডেট নেবেন তিনি। প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন। কোথাও কোনো অসংগতি ধরা পড়লে তৎক্ষণাৎ নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে সেখান থেকেই। কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করলে পরবর্তী রাস্তা ধরতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বুধবার একাধিক কর্মসূচি থেকে তৃণমূল সেনাপতির বার্তা, ‘এবারের বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির জমিদারদের হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করার ভোট। বাংলা বিরোধী জমিদারদের লেজেগোবরে করে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। যারা বাঙালির নাগরিকত্বের প্রমাণ চেয়েছে, মানুষকে কষ্টের মধ্যে ফেলেছে, তাদের জবাব দেওয়ার নির্বাচন। তাই গরমে কষ্ট হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে জবাব দেবেন।’
গত ১৫ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেদিন থেকেই কার্যত ভোট প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। টানা এতদিনের প্রচারে যে জনসমর্থন তৃণমূল কুড়িয়েছে, তাতে তৃণমূল তাদের জয় নিয়ে নিশ্চিন্ত। জনসমর্থনের সেই ইঙ্গিত আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে প্রথম দফার ভোটের আগের দিন। তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বনাথ দাস এবং জয়দেব হালদারের সমর্থনে জয়নগরে সভা করেন অভিষেক। তারপর আনিসুর রহমান ওরফে বিদেশের সমর্থনে দেগঙ্গায় জনসভা ছিল অভিষেকের। সেই কর্মসূচি শেষ করে নোয়াপাড়ায় গিয়ে তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের সমর্থনে রোড শো করেন তিনি। তারপর প্রার্থী অদিতি মুন্সির সমর্থনে অর্জুনপুরে জনসভা করেন। প্রত্যেকটি সভা ও কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখে তৃণমূল বলছে, ‘বিজেপির খেলা শেষ’। অভিষেকের দাবি, ‘৭৭টি আসনও পাবে না বিজেপি। ৫০-এ আটকে যাবে ওরা। আর মাত্র সাতদিন পর রাজনীতির ময়দানে থাকবে না বিজেপি।’
মানুষ তৃণমূলকে কেন ভোট দেবে? তার ব্যাখ্যাও খোলা মঞ্চ থেকে স্পষ্ট করেছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘তৃণমূল জিতলে মিলবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা, মাথার উপর ছাদ, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল, দুয়ারে চিকিৎসা।’ সেই সঙ্গে অভিষেকের খোঁচা, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই-সংগ্রামে ভয় পেয়ে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা। তাই কুরুচিকর ভাষায় দিদিকে আক্রমণ করছেন। আমি ওই বিজেপির নেতাদের বলব, মাথা ঠান্ডা রাখুন। আপনাদের পরাজয় এখন সময়ের অপেক্ষা। ওরা ভুলে গিয়েছে যে মমতার পাশে আছে জনতা।’ এদিন অভিষেকের কর্মসূচিতে নোয়াপাড়ায় সাংসদ পার্থ ভৌমিক, রাজারহাট গোপালপুরে সাংসদ সৌগত রায়, দেবরাজ চক্রবর্তী, প্রবীর পাল, দেগঙ্গায় আরশাদ উদজামানরা হাজির ছিলেন।