নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আম জনতার ক্ষোভ টের পেয়ে অবশেষে পিছু হটল নির্বাচন কমিশন। ভোটের ২ দিন আগে থেকে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত বাইক চালানোর ক্ষেত্রে কার্যত ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছিল তারা। কিন্তু আম জনতাকে এভাবে হয়রানির মধ্যে ফেলার ঝুঁকি ২৪ ঘণ্টাও নিতে পারল না কমিশন! একদিনের মধ্যেই ‘নিষেধাজ্ঞা’ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বদল করতে বাধ্য হল তারা। ‘মোটরচালিত দ্বিচক্র যান’ চলাচল নিয়ে নতুন করে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, শর্তসাপেক্ষে বাইকচালকদের ছাড় দেওয়া হবে। কী সেই শর্ত? অফিসযাত্রীদের সঙ্গে রাখতে হবে তাঁদের অফিসের সচিত্র পরিচয়পত্র। অ্যাপনির্ভর ফুড ডেলিভারি ও পণ্য হোম ডেলিভারির ক্ষেত্রেও ছাড় থাকছে। ভোটের মুখে কমিশনের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হতে পারে ভেবেই তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত বদল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বাইকে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কমিশনের প্রথম নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে। তবে পিছনের আসনে কাউকে বসানো যাবে না। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম লাগু থাকবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। ভোটের দিনের জন্য নির্দেশিকা কিছুটা আলাদা। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যাওয়া-আসার জন্য (সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) বাইকের পিছনে পরিবারের সদস্যকে ওঠানো যাবে। কিন্তু সন্ধ্যা থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত বাইক নিয়ে বেরনোই যাবে না। এই নির্দেশিকা প্রকাশিত হওয়ার পরই জনমানসে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর নামে সাধারণ মানুষকে কেন এভাবে দুর্ভোগের মধ্যে ফেলা হচ্ছে, ওঠে সেই প্রশ্নও।
অ্যাপ বাইক থেকে শুরু করে অ্যাপনির্ভর খাবার বণ্টনের কর্মীরা কমিশনের ওই নির্দেশে মহা ফাঁপরে পড়েছিলেন। কারণ, বাইক ছাড়া তাঁরা কাজ করতেই পারবেন না।
সাধারণ বাইকচালক থেকে অফিসযাত্রীদের বক্তব্য, সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ, বেশিরভাগ বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের অফিস থেকে বেরতেই ৬টা বেজে যায়। তাঁরা ফিরবেন কীভাবে?’ বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ক্ষোভ উগরে দেন অনেকে। অবশেষে সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হয় কমিশন। তবে এরপরও বাইক চালানো নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। কারণ, অনেকে বাইক, স্কুটার নিয়ে বাজারে যান। সান্ধ্যকালীন ভ্রমণ শেষে স্কুটার চালিয়ে বাড়ি ফেরেন অনেকে। তাঁদের কাছে কোনো অফিসের সচিত্র পরিচয়পত্র থাকার কথা নয়। তাহলে তাঁরা কি সন্ধ্যায় গাড়ি নিয়ে বেরতে পারবেন না? শ্যামবাজারের এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী গোপীনাথ সেনগুপ্ত বলছিলেন, ‘এ তো আম জনতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ!’ নিজস্ব চিত্র