মমতার পদযাত্রা, জনস্রোত রামরাজাতলায় আবেগে ভাসল শিবপুর ও দক্ষিণ হাওড়া
বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আবেগ, উচ্ছ্বাস এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার মিশেলে বুধবার বিকালে রামরাজাতলার সংকীর্ণ রাস্তায় উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হল পুলিশকে। ব্যারিকেডের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রৌঢ়ের মন্তব্য, ‘দিদি রাস্তায় নামলে সুনামি নামে’। এদিনের দৃশ্য যেন সেই কথাকেই বাস্তবে রূপ দিল। রামরাজাতলা থেকে বেলেপোল মোড় পর্যন্ত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রা ছুঁয়ে গেল হাজার হাজার মানুষের আবেগ। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
শিবপুর ও দক্ষিণ হাওড়ার প্রার্থী ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় ও নন্দিতা চৌধুরীর সমর্থনে এই পদযাত্রায় অংশ নেন তৃণমূল সভানেত্রী। তাঁর সঙ্গে পা মেলান হাওড়া সদরের অন্যান্য প্রার্থীরাও। বিকাল সওয়া ৫টা নাগাদ রামরাজাতলা স্টেশন রোড সংলগ্ন শংকরমঠ থেকে শুরু হয় পদযাত্রা। শুরু থেকেই স্টেশন রোডের দু’ধারে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। পথের দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ভিড়, মোবাইল তুলে মুহূর্তকে বন্দি করার চেষ্টা— সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয় এলাকায়। পদযাত্রা মহেশ ভট্টাচার্য রোডে পৌঁছাতেই আবাসনগুলির বারান্দা থেকে ভেসে আসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। বিকালে ঘরের কাজ ফেলে বহু গৃহবধূ ছুটে আসেন ব্যারিকেডের ধারে। সীমা ঘোষ, অঞ্জনা রায়ের কথায়, ‘বাড়ির সামনে দিদিকে দেখব, ভাবতেই পারিনি। এই সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। যিনি বাংলার জন্য লড়ছেন, তিনি আমাদের কাছে সবার উপরে।’ শুধু মহিলারাই নন, যুব কর্মীদের ‘আবার জিতবে বাংলা’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। অনেকেই হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন দীর্ঘক্ষণ।
নতুন রাস্তার মোড়ে সাদা শাড়ি ও চশমা পরে তৃণমূল নেত্রীর আদলে সেজে থাকা তিন খুদে বিশেষভাবে নজর কাড়ে। তাদের হাত থেকে গোলাপ ফুল গ্রহণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর শৈলেন মান্না সরণি হয়ে পদযাত্রা ডুমুরজলা ইনডোর স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে এগিয়ে যায় বেলেপোল মোড়ের দিকে। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির কাছে গিয়ে শেষ হয় পদযাত্রা। শেষ মুহূর্তে নেত্রীকে কাছে পেয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন স্থানীয় মহিলারা। তাঁদের বক্তব্য, ‘দিদির লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী আমাদের ভরসা দিয়েছে। আমরাও দিদির পাশে আছি। হাওড়ার ভূমি ঘাসফুলেরই।’ তাঁদের কথায়, উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পের ভরসাতেই ফের জোড়াফুলের প্রতীককে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত হাওড়ার মানুষ।