সংবাদদাতা, বারুইপুর: বুধবার দুপুর দু’টো নাগাদ প্রায় লু বইছে বলে মনে হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে জয়নগরে অনুষ্ঠিত হবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা। জয়নগরে মোল্লার চকে আত্মীয়ের বাড়ি এসেছিলেন বিজলি নস্কর। তাঁর বাঁ পা ভাঙা। তবে অভিষেক এখানে আসছেন শুনে ক্রাচে ভর দিয়েই চললেন দেখতে। সভায় এলেন হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে। তাতে লেখা, ‘উই লাভ এবি’। গৃহবধূ বিজলিদেবী শুধু নন, বাচ্চাদের নিয়ে ভিড় করে সভায় আসেন মহিলারা। প্রবল ভিড় পুরুষদেরও। সবমিলিয়ে বাঁধভাঙা ভিড়। সভাস্থল ছাড়িয়ে রাস্তাতেও দাঁড়িয়ে মানুষ। আট থেকে আশি ভিড়ে আছেন সবাই।
রায়দিঘিতে বাড়ি বিজলি নস্করের। আত্মীয়র বাড়িতে এসেছিলেন বেড়াতে। বলেন, ‘বাঁ পাটা ভাঙা। এই নিয়েই চলতে হয়। অভিষেক যেখানেই যাচ্ছেন মানুষের কথা বলছেন। আমার বাড়ির কাছে গিয়ে বলেছেন মথুরাপুরকে মহকুমা করা হবে। ওঁর ভাষণ শুনতে ভালো লাগে। তাই কষ্ট করেও হলে চলে এলাম।’ জয়নগর ২ নম্বর নম্বর ব্লকের মোল্লার চকের গড়দেওয়ানি, বেলেদুর্গানগর এলাকা থেকেই কয়েক হাজার মানুষ দুপুর ১২ টার পর সভায় ভিড় জমাতে শুরু করেন। রাস্তায় টোটোর ভিড়। তৃণমূল কর্মীরা দূর থেকে এসেছেন। মহিলা ও পুরুষদের জন্য আলাদা জায়গা ছিল সভায়। গরমে গলদঘর্ম অবস্থা সবার। তার মধ্যেই হাতপাখা নিয়ে মহিলারা এসেছেন। অভিষেকের হেলিকপ্টার দেখেই মোবাইল নিয়ে সভায় ব্যারিকেডের সামনে ভিড়। দুপুর ২টো ৩২ মিনিটে অভিষেক সভায় ঢোকেন। তারপর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে জনতা। সবার হাতে প্ল্যাকার্ড। লেখা, ‘অভিষেক জিন্দাবাদ। সেনাপতি তুমি এগিয়ে চলো।’ জয়নগর ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল নেতা সাহাবুদ্দিন শেখ বলেন, ‘সভায় মানুষের শুধু ভিড় আজ। হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছেন দাদার বক্তব্য শোনার জন্য।’ অভিষেক সভা থেকে বলেন, ‘দুপুর তিনটেতে কানায় কানায় পূর্ণ মানুষ। আমি কৃতজ্ঞ।’ অনেক মহিলা দাঁড়িয়েই অভিষেকের বক্তব্য শোনেন। মহিলারা বলেন, ‘তৃণমূল আমাদের জন্য বহু সরকারি প্রকল্প দিচ্ছে। আর অভিষেকের সভায় আসব না। ওঁর বক্তব্য শুনতে ভালো লাগে বলেই তো আসা।’