• পাতালে রিলসের জ্বালা? কড়া হতে পারে মেট্রো আইন
    এই সময় | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: মেট্রো স্টেশন এবং চলন্ত ট্রেনের মধ্যে মোবাইলের ক্যামেরায় নানা ধরনের রিল তৈরি, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ শো, সহযাত্রীদের অসুবিধার তোয়াক্কা না করে জোরে গান বাজানো বা ফোন স্পিকার মোডে দিয়ে সবাইকে শুনিয়ে কথা বলার দিন শেষ হতে চলেছে। মেট্রো রেল (অপারেশনস অ্যান্ড মেনটেন্যান্স) অ্যাক্ট ২০০২–এর ৫৯ ধারা পরিমার্জন করে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা চলছে বলে জানাচ্ছেন রেলের আধিকারিকরা। সংসদে ওই পরিমার্জন পাশ হলে দেশের যে কোনও প্রান্তেই মেট্রো রেলে ভ্রমণ কড়া নিয়মের আওতায় চলে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। আইন ভাঙলে অভিযুক্ত যাত্রীকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও দিতে হতে পারে।

    পর পর বেশ কয়েকটি অনভিপ্রেত ঘটনার পরে খবরের শিরোনামে এসেছিল দিল্লি মেট্রো। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল একের পর এক ভিডিয়ো। তার কোনওটায় দেখা গিয়েছিল, দিল্লি মেট্রোর মহিলা কামরায় যাত্রীদের মধ্যে তুমুল বচসা এবং হাতাহাতি। কোনওটায় দেখা গিয়েছিল, হোলির আবহে মেট্রোর কামরাতেই যাত্রীদের জোর করে রঙ মাখানোর চেষ্টা হচ্ছে। কলেজপড়ুয়া তরুণ–তরুণীদের কীর্তিকলাপের বেশ কিছু ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরে মেট্রোর কামরায় শালীনতা বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। ইস্পাতের লম্বা রডের মতো যন্ত্রাংশ নিয়েও মেট্রোয় উঠতে দেখা গিয়েছিল কিছু যাত্রীকে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁিকর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মেট্রোয় নজরদারিতে রীতিমতো ‘মনিটরিং টিম’ তৈরি করতে হয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)–কে।

    কড়া পদক্ষেপ করতে হয়েছে চেন্নাই মেট্রোকেও। চলন্ত ট্রেনে সহযাত্রীদের অসুবিধা করে জোরে গান শোনা বা রিল দেখার উপরে ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করেছে সংস্থা। দিল্লি বা চেন্নাইতে যে সমস্যা নিত্যদিনের, সেই সমস্যায় পড়তে হয় কলকাতা মেট্রোর যাত্রীদেরও। তবে কি এখানেও কড়া পদক্ষেপের পরিকল্পনা রয়েছে? জবাবে কলকাতা মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এস কন্নন বলেন, ‘দিল্লি ও চেন্নাই মেট্রো চলে পিপিপি মডেলে। কিন্তু কলকাতা মেট্রো রেল বোর্ডের অধীন একটি জ়োন। ফলে দিল্লি বা চেন্নাই যেটা খুব সহজে করতে পারে, কলকাতা সেটা পারে না। বোর্ডের অনুমোদন লাগে। তবে বোর্ড মেট্রো রেল (অপারেশনস অ্যান্ড মেনটেন্যান্স) অ্যাক্ট ২০০২–এর ৫৯ ধারা পরিমার্জনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংসদে ওই পরিমার্জন পাশ হলে বেশ কিছু পরিবর্তন করা যাবে।’

    রেলের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ২০০২–এর আইন তৈরির পরে অনেক বছর পেরিয়ে গিয়েছে। যখন আইন আনা হয়েছিল, সে সময়ে স্মার্ট ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া বা রিলস — এ সব কিছুই ছিল না। ফলে জোরে গান শোনা থেকে শুরু করে কামরায় রিলস বানানো — কোনওটার বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উপায় ছিল না। এ বার পরিমার্জনের পরে অনেক ‘উপদ্রব’ই আটকানোর আশা দেখছেন আধিকারিকরা।

  • Link to this news (এই সময়)