• বন্দি থেকে গাড়িচালক, ভোট দেবেন কী করে!
    এই সময় | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: আজ, বৃহস্পতিবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোট। কিন্তু ওঁদের কথা কে ভাববেন? ওঁরা, মানে গাড়ির চালকরা। নির্বাচনের দিন পুরো সময় সেই চালকদের থাকতে হয় ভোটকেন্দ্রে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভোট আর দিয়ে ওঠা হয় না তাঁদের। সেই ভোটদানের অধিকার নিয়ে বুধবার পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে বিক্ষোভদেখালেন চালকরা।

    রঘুনাথপুর কলেজের ডিসিআরসি সেন্টারে আসা গাড়ির চালকরা ক্ষোভজানিয়ে বললেন, 'ছোট-বড় মিলে প্রায় ৪০০-র বেশি চালক রয়েছেন এই কেন্দ্রে। কাশীপুর, রঘুনাথপুর এবং পাড়া- এই তিন বিধানসভা এলাকার বুথগুলিতে ভোটকর্মীদের নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের। প্রত্যেক বার নির্বাচনের সময়ে গাড়ি নিয়ে আসি, ফলে নিজেদের ভোট আর দিয়ে ওঠা হয় না। এমনিতেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) প্রক্রিয়ার কারণে অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। এ বার আমাদেরও ভোটদানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।'

    ঘটনা হলো, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেও লাভ কিছু হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কী ভাবে গাড়ির চালকরা ভোট দেবেন, সেটা তাঁদেরই ঠিক করে নিতে হবে। তা ছাড়া এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা না-জানা পর্যন্ত কিছু করা সম্ভব নয়।

    একই ছবি দেখা গিয়েছে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন সংশোধনাগারে থাকা বন্দিদের ক্ষেত্রেও। 'সার' প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে এই বন্দিদের ভোটদানের ব্যবস্থা করতে প্রাথমিক ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা এনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করার জন্য যাবতীয় নথিপত্রও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত বন্দিরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশ আসেনি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে।

    পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল সংশোধনাগারে এই মুহূর্তে ৪০০ বন্দি রয়েছেন, এঁদের মধ্যে ৩০ জন মহিলা। কিন্তু তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কোনও নির্দেশিকা এসে পৌঁছয়নি বলে জানিয়েছেন জেল সুপার চান্দ্রেয়ী হাইত। তিনি বলছেন, 'এই বিষয় আমাদের দপ্তরের থেকে কোনও নির্দেশ থাকলে নিশ্চয়ই ওপরমহলের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলতাম।' রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইচ্ছে থাকলে জেলা সংশোধনাগারে আলাদা একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা যেতে পারত।

    আবার রাষ্ট্রায়ত্ত কোল ইন্ডিয়ার সহায়ক সংস্থা ভারত কোকিং কোল লিমিটেডের পশ্চিমবঙ্গের প্রায় এক হাজার শ্রমিক ভোটারকে প্রিপেড হলিডে দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে কুলটি বিধানসভার সিভি এরিয়ার হিন্দ মজদুর সভা শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বুধবার পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক তথা জেলার রিটার্নিং অফিসারকে ই-মেল এবং ফোন করে অভিযোগ জানানো হয়েছে। যে হেতু ভোটের কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে অধিকাংশ বাস তুলে নেওয়া হয়েছে, ফলে তাঁরা ভোট দিয়ে কর্মস্থলে পৌঁছতে পারবেন না। ওই এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার শশীভূষণ কুমার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ধানবাদ দপ্তর।

  • Link to this news (এই সময়)