বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম
১৬৩ ধারা জারি তো কী হয়েছে। কিন্তু তার কোনও বাধা নেই। সে তো মাঝেমধ্যেই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে চলে আসছে। আজ, বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামেও ভোট। এ দিনও বেরিয়ে আসতে পারে সে। সুস্থ হতেই পুরোনো মেজাজে ফিরেছে রামলাল। খাবারের সন্ধানে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পথ আটকে দাঁড়িয়ে পড়ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আজও 'দুষ্টুমি' করতে পারে রামলাল। তাকে নিয়ে চিন্তা বন দপ্তরের। ইভিএম-সহ ভোট কর্মীদের রুখতে পারে রামলাল, হানা দিতে পারে বুথেও। তাই নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত রামলালকে বিশেষ নজরবন্দি করছে বন দপ্তর।
ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামলালের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য ঐরাবত গাড়ি-সহ ১৫ জনের একটি বিশেষ টিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লোধাগুলি থেকে ঝাড়গ্রাম ঢোকার রাস্তার শালবনিতে রামলাল মাঝেমধ্যেই চলে আসছে। তা ঠেকাতে শালবনিতে মোতায়েন করা হয়েছে বন দপ্তরের আরও একটি টিমকে। এ ছাড়া জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাতির দলগুলির উপরে 'এলিফ্যান্ট ট্রেকার্স টিম' প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছে। অভিজ্ঞ হুলা পার্টির সদস্যদের নিয়ে 'ক্যুইক রেসপন্স টিম' (কিউআরটি) তৈরি রাখা হয়েছে।
লোকালয়ে হানা দেওয়ার পাশাপাশি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পথ আটকে খাবারের সন্ধান করা তার অভ্যাস। বন দপ্তর সূত্রের খবর, সপ্তাহ দু'য়েক আগে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে রামলাল ও শ্যামলাল নামে একটি হাতির এলাকা দখল নিয়ে লড়াই বেধেছিল। এই ঘটনায় সামনের ডান পায়ে চোট পায় রামলাল। যন্ত্রণায় গোবিন্দপুর এলাকার একটি ক্যানালের জল-কাদার মধ্যে দু'দিন বসে কাটায় সে। গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে আলু, আনাজ খেতে দেয় রামলালকে। বন দপ্তর খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে রামলালকে খাইয়ে সুস্থ করে। ঝাড়গ্রাম ও লোধাশুলি রেঞ্জের শালবনি, গড়শালবনি এলাকার জঙ্গলে ফেরত পাঠানো হয় রামলালকে। শালবনির বাসিন্দা শ্যামসুন্দর মাহাতো বলেন, 'মঙ্গলবার সারাদিনে তিনবার শালবনির কাছে রাস্তায় উঠে পথ আটকে খাবারের সন্ধান চালায়। রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে থাকে। বন দপ্তরের কর্মীরা রামলালকে রাস্তা থেকে জঙ্গলে ফেরত পাঠালেও কিছুক্ষণ পরে ফের চলে আসে।' ভোটের জন্য জেলায় আসা বাস এবং কেন্দ্র বাহিনীর গাড়িও আটকে যায় ওই দিন।
তাই বন দপ্তর ব্যবস্থা নিয়েছে। বন দপ্তর জানায়, হাতি কবলিত এলাকার ভোট গ্রহণ কেন্দ্রগুলিতে বাড়তি নজরদারির জন্য রয়েছে স্পেশাল টিম। হাতি নিয়ন্ত্রণে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগে ৩০০ জন আধিকারী-সহ বন কর্মীদের দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি রয়েছে ২৫টি গাড়ি। জেলায় মোট চারটি বন বিভাগ রয়েছে। তার মধ্যে জেলার সিংহভাগ অংশ ঝাড়গ্রাম ও খড়াপুর বন বিভাগের আওতায়। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগে ১৬টি হাতি এবং খড়াপুর বন বিভাগের কলাইকুণ্ডা রেঞ্জে ৩৭টি এবং নয়াগ্রাম, চাঁদাবিলা, কেশররেখা এই তিনটি রেঞ্জে ১৭টি হাতি রয়েছে।
নজরদারিতে রয়েছে এলিফ্যান্ট ট্রেকার্স টিম ও কিউআরটি টিম। খড়াপুরের ডিএফও মণীশ যাদব বলেন, 'সুষ্ঠু ভোট পরিচালনায় হাতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জঙ্গল লাগোয়া বুথের ভোট কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে বন দপ্তরের কর্মীরা তাঁদের ফোন নম্বর দিয়েছেন। কোনও সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
খড়াপুর বন বিভাগে হাতি নিয়ন্ত্রণে আধিকারিক এবং বন কর্মী মিলিয়ে ১৫০ জন দায়িত্বে রয়েছেন। ভোট শেষ করে ডিসিআরসি সেন্টার ইভিএম নিয়ে ভোট কর্মীরা না ফেরা পর্যন্ত হাতি নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে বন দপ্তর।