• ভোটে ক্যাবও তুলে নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত ভাড়ায় ভোগান্তি চরমে
    এই সময় | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: এক দিকে গণতন্ত্রের উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে, অন্য দিকে রাজপথে কার্যত অসহায় অবস্থায় সাধারণ মানুষ। এমনিতেই শহরে সরকারি বাসের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় ২৮ শতাংশ কম। আবার লোকসানের বোঝা সামলাতে না পেরে বেসরকারি বাস–মালিকরাও গত কয়েক বছরে অনেক বাস রাস্তা থেকে তুলে নিয়েছেন। বছর দুয়েক আগে যেখানে কলকাতায় ৫ হাজার বাস চলত, তা এখন কমে হয়েছে ৩ হাজার। এই আবহে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ক্যাবও তুলে নেওয়ায় সপ্তাহের শুরু থেকে কলকাতায় যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত। প্রবল দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।

    পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনী কাজের জন্যে শহর থেকে প্রায় ৯০০টি বেসরকারি বাস তুলে নেওয়া হয়েছে। শিয়ালদহ, বেলেঘাটা, হাওড়া, এয়ারপোর্ট এবং দক্ষিণ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে বাসের আকাল সব থেকে বেশি। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের দেখা মিলছে না। উল্টোডাঙা–সেক্টর ফাইভ, উল্টোডাঙা–নিউ টাউন, উল্টোডাঙা–রুবির মতো রুটে যে দু-একটি বাস আসছে, তাতে তিলধারণের জায়গা নেই।

    তবে বাসের থেকেও খারাপ অবস্থা অ্যাপ-ক্যাব পরিষেবার। শহরের রাস্তায় যেখানে এমনিতে দিনে প্রায় ২৫ হাজার ক্যাব চলে, সেখানে এখন সেটা নেমেছে মেরেকেটে হাজার সাতেকে। চালক ও মালিকদের বড় অংশের বক্তব্য, রাস্তা থেকে কমিশন জোর করে গাড়ি তুলে নেবে—এই ভয়ে অনেকেই গাড়ি গ্যারাজ–বন্দি করে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এই কৃত্রিম সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে আকাশছোঁয়া ভাড়া হাঁকছে বাকি অ্যাপ-ক্যাব। দমদম থেকে শ্যামবাজারের মতো সামান্য দূরত্বে ৩৫০-৪০০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে যাত্রীদের। রেহাই নেই অ্যাপ–বাইকেও, সেখানেও ভাড়া ২০-২৫ শতাংশ বেড়েছে। মানিকতলার বাসিন্দা শুভম চৌধুরীর আক্ষেপ, ‘অফিস পৌঁছতে রোজই যুদ্ধ করতে হচ্ছে। বাস নেই, আর যা আসছে তাতে ওঠার ক্ষমতা নেই।’ পূর্ব সিঁথির শর্মিলা মাইতির দাবি, ‘ক্যাবেও যে যাব, সেখানে ভাড়া প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ বেড়েছে।’

    পরিবহণ দপ্তরের দাবি, সঙ্কট সামাল দিতে রিজার্ভে থাকা সরকারি বাস নামানো হয়েছে। কিন্তু নিত্যযাত্রীরা বলছেন, বিপুল চাহিদার তুলনায় তা কিছুই নয়। পরিস্থিতির এখনই উন্নতির সম্ভাবনাও নেই। ভোটের ফলপ্রকাশের পরেই কলকাতার চাকা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত চড়া রোদ আর মাত্রা ছাড়া ভাড়ার ‘প্যাঁচে’ জেরবার হওয়া ছাড়া শহরবাসীর কাছে বোধহয় আর কোনও বিকল্প নেই।

  • Link to this news (এই সময়)