• শেষ মুহূর্তে কমিশনের সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ নিয়েই বুথে কর্মীরা, ভাতা নিয়েও ধন্দ
    এই সময় | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: বুথে বুথে ভোটকর্মী নিয়োগ নিয়ে শেষ মুহূর্তেও চলছে টানাপড়েন, সিদ্ধান্ত বদল! রাজ্যের যে সব ভোটকেন্দ্রে ৫০০-র কম ভোটারের বুথ রয়েছে, সেগুলির জন্যে চারের বদলে তিন সদস্যের পোলিং পার্টি (প্রিসাইডিং অফিসার, প্রথম এবং দ্বিতীয় পোলিং অফিসার) নিয়োগ করা যেতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের তরফে আচমকা জেলাশাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে বুথে বুথে চার জন করে জওয়ান থাকবেন, সেখানে ভোটকর্মীর সংখ্যা শেষবেলায় কমানো হচ্ছে কেন!

    আবার নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথে একজন বিএলও-র সঙ্গে একজন পুরুষ বা মহিলা থাকবেন। বৃহস্পতিবার ১৫২টি কেন্দ্রে প্রথম দফার ভোটের আগে ফোন করেও অনেককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোটকর্মীদের ট্রেনিংয়ে বিভিন্ন সেন্টারে ২০২৩–এর ম্যানুয়াল দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাতে ‘সার’ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পরিবর্তনের কোনও সংযোজনই নেই। অনেককে ম্যানুয়াল দিতেই পারেননি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা। তাঁদের বলা হয়েছে, ভোট–সামগ্রী বিলির কেন্দ্রে (ডিসিআরসি) গিয়ে ম্যানুয়াল নিতে হবে। এই অব্যবস্থার মধ্যে বীরভূমের নলহাটি, সিউড়ি শিল্প বিদ্যাপীঠ, বোলপুর হাই স্কুল–সহ বিভিন্ন ডিসিআরসি–তে ভোটকর্মীদের পাশাপাশি পুলিশকর্মীরা ভোটের ডিউটির জন্যে প্রাপ্য ভাতাও পাননি বলে অভিযোগ। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে এ ব্যাপারে কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

    ভোটের প্রশিক্ষণ ছাড়াই জেলায় জেলায় ভোটকেন্দ্রে শিক্ষক–শিক্ষিকাদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই তালিকায় বিশেষ ভাবে সক্ষম শিক্ষিকারাও রয়েছে‍ন! অনেক শিক্ষক–শিক্ষিকাকে বাড়ি থেকে ১০–৫০ কিমি দূরে ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথে কাজ করতে হবে বলা হয়েছে। সে কাজের জন্যে অনেকে প্রশিক্ষণও পাননি বলে অভিযোগ। তাঁরা কী ভাবে ভোটারদের সাহায্য করবেন, উঠছে সেই প্রশ্নও। অনেক শিক্ষক–শিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা শারীরিক কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চেয়েছিলেন, কিন্তু পাননি। এমনকী ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালট জমা দেওয়ার সময়ও পেরিয়ে গিয়েছে। ফলে এ বার তাঁরা ভোটও দিতে পারবেন না!

    বাঁকুড়ার বহু শিক্ষক–শিক্ষিকা এমন অভিযোগ তুলেছেন। একজনের দাবি, ‘আমার ৫৫ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সে কারণে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলাম। তা মঞ্জুর হয়নি।’ তিনি প্রশিক্ষণ না নিলেও ২৩ এপ্রিল নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতেই হবে বলে জানানো হয়েছে। আবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার ভোটার গোপীবল্লভপুরের এক স্কুল–শিক্ষিকা বিএলও হিসাবে ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথে দায়িত্ব পেয়েছেন সেই গোপীবল্লভপুরে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ভোটাধিকার নিয়ে। তাঁর কথায়, ‘রবিবার সন্ধ্যায় আমাকে ফোনে বলা হয়, ২৩ এপ্রিল সকাল ৬টার মধ্যে ভোটকেন্দ্রে চলে যেতে। প্রশিক্ষণ নিইনি, কী ভাবে ভোটারদের সাহায্য করব? ডেবরায় নিজের ভোটই বা দেব কী করে?’

    যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের দাবি, ‘রাজ্যভিত্তিক এ ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট জেলা থেকেই ভোটকর্মীদের নির্বাচনী দায়িত্ব যা দেওয়ার দেওয়া হয়েছে।’ শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের (ভোটকর্মী শাখা) সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারীর অভিযোগ, ‘দূরের ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথে কেউ ডিউটি করলে নিজের বুথে ভোট দেবেন কী করে? ট্রেনিং ছাড়াই ডিউটি দেওয়া হচ্ছে কী করে? ভোটের দিন দূরবর্তী এলাকায় তাঁরা পৌঁছবেনই বা কী করে? এর কোনও উত্তর প্রশাসনের কাছে নেই। শুধু ডিউটি পালনে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’

  • Link to this news (এই সময়)