মার্জিন বাড়বে, আত্মবিশ্বাসী কাজপাগল রাজ, জিতে নিকাশির মাস্টার প্ল্যানই লক্ষ্য
বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর; তিনি হালিশহরের ছেলে। পড়াশোনা কাঁচরাপাড়া স্কুল এবং নৈহাটির ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজে। ট্রেনে-বাসে কষ্ট করে টলিউডের পরিচালক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পাশাপাশি গত পাঁচ বছরে এই ‘কাজপাগল’ মানুষটি নিজেকে বারাকপুরের সফল বিধায়ক হিসাবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বারাকপুর স্টেশনের কাছে বিধায়কের অফিসে সারা বছর তাঁকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়। তিনি হলেন রাজ চক্রবর্তী। সিনেমা পরিচালনার মতোই উন্নয়নের যে কোনো কাজ তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করেন। বছর পাঁচেক আগেও বারাকপুর স্টেশন থেকে যাওয়া ঘোষপাড়া রোড একটু বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ত। ভাঙাচোরা ঘোষপাড়া রোডকে পেভার ব্লক দিয়ে অন্য চেহারা দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, রেলের সঙ্গে কথা বলে ঘোষপাড়া রোডের ধারে পাঁচিলে রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মনীষীদের ছবি পেইন্ট করিয়েছেন। বারাকপুর স্টেশনের সামনে বসিয়েছেন একশ ফুটের জাতীয় পতাকা। গত কয়েক বছরে বদলে গিয়েছে বারাকপুর স্টেশন চত্বর।
শুধু ওই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নয়, টিটাগড়ের এঁদো গলি থেকে শুরু করে বারাকপুর শহরের ব্যস্ত গলিগুলিও বদলে গিয়েছে তাঁর হাত ধরে। হয়েছে পুকুর সংস্কার, সুন্দর করে সেজেছে খেলার মাঠ। সর্বোপরি বারাকপুরের মহকুমা হাসপাতাল, বিএন বসু হাসপাতালের চেহারার সার্বিক পরিবর্তন করেছেন তিনি। বারাকপুরের কোনো বাসিন্দা যদি তাঁকে কোনো কাজ দেন, বা অফিসে ফোন করে জানান, তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই কাজ করা হয়। যদি না হয়, তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলারকেও রাজ চক্রবর্তীর রোষের মুখে পড়তে হয়। প্রতিটি কাজ, পদক্ষেপের খুঁটিনাটি খোঁজ নেন কাজপাগল রাজ।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে প্রথম দাঁড়িয়ে ন’হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী নিহত মনীশ শুক্লার বাবা চন্দ্রমণি শুক্লাকে। এবার তাঁর লড়াই বিজেপি প্রার্থী আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচির সঙ্গে। তবে বিরোধী প্রার্থীকে তেমন গুরুত্ব দিতে রাজি নন রাজ চক্রবর্তী। বললেন, এবার অন্তত ২২ হাজার ভোটে জিতব। গত পাঁচ বছরে আমি যে কাজ করেছি, মানুষ দেখেছে। আমার অফিস সব সময় সক্রিয় ছিল। সেখান থেকে সব রকমের পরিষেবা পেয়েছে মানুষ। আমি বিশ্বাস করি ইভিএমে মানুষ তার প্রতিদান দেবে। জিতে এসে আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে, বারাকপুরে জল নিকাশির সমস্যার একটি মাস্টার প্ল্যান করা। এছাড়া বারাকপুরকে ফ্রি ওয়াইফাই যুক্ত শহর করা হবে।
এদিকে, রাজকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে প্রচার করছেন কৌস্তুভ বাগচি। বলছেন, রাজ বহিরাগত। আমিই আসলে বারাকপুরের ছেলে। পাশাপাশি সিপিএম প্রার্থী অধ্যাপক সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, জুটমিলগুলো বন্ধ। সেখানকার শ্রমিকদের কথা কেন্দ্র বা রাজ্যের শাসকদলের মনেও পড়ে না। এই অভিযোগের জবাবে রাজ বলছেন, তিনটে জুটমিলের মধ্যে দুটো খুলে গিয়েছে। বাকি একটিও খুলে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির জন্য জুটমিলগুলির আজকের এই অবস্থা।
বারাকপুর এবং টিটাগড় পুরসভা নিয়ে এই বিধানসভা কেন্দ্র। বারাকপুর পুরসভায় বরাবর লিড থাকলেও টিটাগর পুরসভা এলাকায় তৃণমূল পিছিয়ে থাকে। তাই এবার সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন রাজ চক্রবর্তী। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ টিটাগড়ে রবীন্দ্রভবন থেকে শুরু করে রাস্তা, আলোর যে রকম কাজ হয়েছে, তাতে সেখানকার মানুষ তাঁকে ফেরাবে না। আত্মবিশ্বাসী রাজ চক্রবর্তীর এবার তাই মার্জিন বৃদ্ধি করাই লক্ষ্য।