• হুগলি ধর্ম ও বাঙালি সংস্কৃতির সমন্বয়ের ভূমি, এখানে বিজেপিকে শূন্য করে দিন
    বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • অভিজিৎ চৌধুরী, হরিপাল: হুগলি জেলা বেনজির সমন্বয় ও সম্প্রীতির ধাত্রীভূমি। সেই জেলা থেকেই বিজেপিকে শূন্য করে দেওয়ার ডাক দিয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার হরিপালের সাহাপুরের ভিড়ে ঠাসা মাঠে তৃণমূল সুপ্রিমো জেলার সঙ্গে তাঁর পুরানো সম্পর্ক, জেলাজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের উন্নতিতে তাঁর সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ করেছেন জেলার আলুচাষিদের জন্য সরকারি প্রকল্পের কথা। শেষপর্যন্ত বাংলাকে রক্ষা করার এবারের লড়াইতে হুগলির মা-বোন-ভাই-দাদাদের জোট বাঁধার ডাক দিয়েছেন জননেত্রী। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সাধারণ নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি হরিপালের (আরামবাগ) সাংসদ মিতা বাগের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন।

    এদিনের সভার শুরুতেই মমতা বলেন, মিতা বাগকে আপনারা জিতিয়েছেন। তাতে আমার লাভই হয়েছে। খাটুয়া মেয়ে, খুব কাজের। ও রামকৃষ্ণদেব, মা সারদার জন্মভূমি জয়রামবাটি, কামারপুকুরের জন্য কাজ করে। সাধুসন্তরাও ওঁকে পছন্দ করেন। তারপরেই তিনি বলেন, বিজেপির দিল্লির জমিদাররা রানি রাসমণি বলতে পারে না। ওরা বলে ‘রসমণি’! আমি ওই মহান রানির নামে হুগলিতে বিশ্ববিদ্যালয় গড়েছি। রামকৃষ্ণদেব আমাদের দেবতা, জমিদাররা তা মানে না। এই হুগলি জেলায় ব্যান্ডেল চার্চ, ফুরফুরা শরিফ, ইমামবাড়া, মাহেশের জগন্নাথ মন্দির, তারকেশ্বর ধাম আছে। এক মহান সম্প্রীতি ও সমন্বয়ের ভূমি। আপনারা সৌভাগ্যবান এমন ভূমিতে জন্মেছেন। আর আমি সৌভাগ্যবান এই ভূমির সঙ্গে আমার ছোটবেলার যোগাযোগ। ছাত্রজীবনে এই হরিপালেই ক্যাম্প করতে এসেছিলাম। এই মাটির প্রতিটি ধর্মীয় স্থানের বিকাশে আমাদের সরকার কাজ করেছেন। একাধিক ডেভেলপমেন্ট বোর্ড আমরা করেছি। আমরা কোনো ভেদাভেদ করি না। এই সমন্বয়ের পুণ্যভূমি থেকে শপথ নিতে হবে মা, বোনেরা, দাদা-ভাইয়েরা। বিজেপিকে শূন্য করে দিতে হবে। এটা বাংলার লড়াই, হুগলির বাঙালিরও সম্মানরক্ষার লড়াই। এরপরেই আলুচাষিদের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, চাষিদের আলু আমরা বেশি দামে কিনছি। কোল্ড স্টোরেজ করা হয়েছে। শস্যবিমা করা হয়েছে। আর যেসব জমিদারের রাজ্যে কৃষকরা আত্মহত্যা করেন, তাঁরাই এখানে এসে গলায় আলু ঝুলিয়ে মায়াকান্না জুড়েছেন!

    কত মহান মানুষের জন্মস্থান হুগলি জেলা তার তালিকা পেশ করেছেন মমতা। জেলার জন্য সমস্ত সামাজিক প্রকল্পের খতিয়ান পেশ করেছেন তিনি। আর শেষপর্বে ডাক দিয়েছেন এক অন্য পরিবর্তনের। তিনি বলেন, বাংলাকে দিল্লির জমিদাররা হিংসে করে। এবারের লড়াইতে তাই কোনো ভোট নষ্ট করা যাবে না। হিংসুটেদের মুখে ঝামা ঘষে দিতে হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)