• অভিষেকের রোড শো ঘিরে বাঁধনছাড়া উচ্ছ্বাস নোয়াপাড়ায়
    বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, নোয়াপাড়া: বুধবার বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শো ঘিরে বাঁধনছাড়া উচ্ছ্বাস দেখা গেল নোয়াপাড়ায়। মানুষের আবেগ দেখে আপ্লুত অভিষেকও। গাড়ি থেকে অনবরত গোলাপের পাপড়ি ছুঁড়ে প্রত্যভিবাদন জানালেন তনি। গাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে উঠে অভিষেক বললেন, আজ মনে হচ্ছে এটা কোনো নির্বাচনি রোড শো নয়, এ যেন বিজয় উৎসব। গত লোকসভা নির্বাচনে বেইমান, দাঙ্গাবাজকে হারানোর যে খুঁটিপুজো করেছিলেন পার্থ ভৌমিক, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে বিসর্জন দেবেন তৃণাঙ্কুর। আপনারা তৃণাঙ্কুরকে ৪০ হাজার ভোটে জেতান। আমি কথা দিলাম, ও পাঁচ বছর মাথা নিচু করে আপনাদের হয়ে কাজ করবে। এখানে যা যা সমস্যা আছে, যেমন উত্তর বারাকপুরে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের সমস্যা, শিউলি মোহনপুরে জলের সমস্যা, আমি নিজে তার সমাধানের দায়িত্ব নিচ্ছি।

    এদিন বিকেল পৌনে পাঁচটা নাগাদ শ্যামনগরের পিনকল মোড় থেকে রোড শো শুরু করেন তিনি। সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন সাংসদ পার্থ ভৌমিক এবং নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। এগিয়ে চলে রোড শো, জয় বাংলা স্লোগানে কেঁপে ওঠে এলাকা। একপ্রকার মানুষের কাঁধে চড়েই যেন এগিয়ে চলে র‌্যালি। শহিদ বিকাশ বসুর মূর্তি দেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমে তাঁকে প্রণাম করেন। 

    অভিষেক বলেন, তৃণাঙ্কুর দক্ষ সংগঠক। আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী। খুব ভালো ছেলে। ২৪ ঘণ্টা আপনাদের সঙ্গে থাকবে, আমি কথা দিয়ে গেলাম। আর এখানে যিনি বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়েছেন, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে তিনি হেরেছেন। হেরে গিয়েও লজ্জা নেই। আবার দাঁড়িয়েছেন। স্কুলে পরপর দু’বার পরীক্ষায় ফেল করলে কী হয় তা তো জানেন। স্কুল ‘টিসি’ দেয়। আপনারাও ওঁকে এবার ‘টিসি’ দিন। ওঁর হলফনামা দেখেছেন? ১১৯টা কেস রয়েছে। বিকাশ বসু খুন কেসে অন্যতম অভিযুক্ত। উনি পাঁচ বছরে সাংসদ হিসেবে কী কাজ করেছেন? ওঁকে আপনারা পরাস্ত করুন। মঞ্জু বসু এখানে বিধায়ক ছিলেন, অনেক কাজ করেছেন। ১২ বছর মোদি সরকার কী কাজ করেছে, আর ১৫ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কী কাজ করেছে, তা নিয়ে বিতর্ক হোক। আমি প্রস্তুত আছি। 

    অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, গতকাল আপনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেছেন, এ দিদি। আপনি যাকে একথা বলছেন, আপনার চেয়ে তিনি ১০ বছর বয়সে বড়। চারবারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সাতবারের সাংসদ। তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার মানুষ তার শক্তি। একজন মহিলাকে হারাতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, ষোলটা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, দশটা মুখ্যমন্ত্রী বাংলা চষে বেড়াচ্ছেন। চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি অমিত শাহ, চার তারিখ বেলা বারোটার পর বাংলায় থাকবেন তো? আমি গত দু’মাস চরকির মত ঘুরে দেখেছি, মানুষের আস্থা-ভরসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরে আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই মাটি থেকে উৎখাত করা এত সহজ নয়। যাঁরা চমকাচ্ছেন, যাঁরা ধমকাচ্ছেন; ইডি, সিবিআই, নির্বাচন কমিশন দিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন, তারা জেনে রাখুন, মানুষ ইভিএমেই এসবের জবাব দেবে। নোয়াপাড়ায় আগামী ১০০ বছর বিজেপির পতাকা কেউ যাতে ওড়াতে না পারে, তার দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)