নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপির কথামতো পুলিশ অবজার্ভার এবং সাধারণ অবজার্ভারদের উপর চাপ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন! গত কয়েকদিন ধরে এই অভিযোগে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অভিযোগ যে অক্ষরে অক্ষরে সত্য, তার প্রমাণ মিলল হাতেনাতে। একেবারে খোদ অবজার্ভারদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেই। সেখানে উঠে এসেছে বিস্ফোরক বয়ান—গাইডলাইনে নির্দিষ্ট করে যে কাজের কথা বলা হয়েছিল, তার বাইরেও ‘অন্য কাজ’ করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এক অবজার্ভার তো সেখানে লিখিতভাবেই স্বীকার করেছেন, ‘এটা একপ্রকার চিটিং!’ এই বিস্ফোরক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বুধবার সামনে এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গর্জে উঠেছেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি তথা রাজীব কুমার স্বয়ং—‘পুলিশ পর্যবেক্ষকদের মৌখিক নির্দেশে ৫০০ জনের বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু এটা নির্বাচনি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করাবেন আর ভোটের পর জামিন পেয়ে সবাই ভুলে যাবে—যদি কোনো পর্যবেক্ষক সেটা ভেবে থাকেন, তবে ভুল করছেন।’ সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয়, সেকথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা সব পুলিশ পর্যবেক্ষকদের উপর নজর রাখছি। সবার নাম লিখে রাখছি। বেআইনি কাজ করলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর পরে কেউ যদি বলেন, অন্য রাজ্য থেকে ভোটের ডিউটিতে এসেছিলাম, সেই রক্ষাকবচও চলবে না।’
রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ, সি পালরাসু নামে এক সাধারণ পর্যবেক্ষক কমিশনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে লিখেছেন, ‘মনোজ আগরওয়ালের সিইও দপ্তর চাপ সৃষ্টি করছে। কী কাজ করতে হবে, সেটা দিল্লি থেকে আমাদের বলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার বাইরে গিয়ে কাজ করার নির্দেশ আসছে। এমনকী দিল্লি থেকে আমাদের বলে দেওয়া হয়েছিল, সিইওর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখতে হবে না। কিন্তু সিইও দপ্তর থেকে আমাদের উপর নির্দেশাবলি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই চাপ সৃষ্টি একপ্রকার চিটিং।’ এই প্রসঙ্গেই কমিশনের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, ‘মনোজ আগরওয়াল, সুব্রত গুপ্তরা সাধারণ পর্যবেক্ষক এবং পুলিশ পর্যবেক্ষকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। এই তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে ওই প্রতিবাদী অবজার্ভারের পোস্টগুলি মুছে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁকে সরিয়েও দিয়েছেন সিইও।’
এছাড়াও সাগরিকা হোটেলের ২০৮ নম্বর ঘরে মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ডহারবারের বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে পুলিশ অবজার্ভারের বৈঠক নিয়েও সরব হয়েছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে কুণালের কটাক্ষ, ‘লক্ষাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনী, সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে বাংলায় ভোট করাচ্ছে কমিশন। এবার শুধু ট্যাঙ্ক এবং যুদ্ধবিমানটাই আনা বাকি আছে। সেটাও পারলে নির্বাচন কমিশন নিয়ে আসুক!’