হরিপাল ও আমডাঙা: বদল নয়, এবার হবে বদলা! আর তা হবে গণতন্ত্রের অস্ত্রে। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে। রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে এই হুংকার দিলেন বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গেরুয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষকে গণতান্ত্রিকভাবে বদলা নেওয়ার ডাক দেন তিনি। বিজেপির ‘অত্যাচার-মিথ্যাচার’-এর একাধিক উদাহরণ তুলে তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়ে দেন, এই ভোটে বিজেপির রাজনৈতিক পতন নিশ্চিত। চতুর্থবারের জন্য সরকার গড়া নিয়ে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী তিনি। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা ও হুগলির হরিপালের নির্বাচনি জনসভা থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের স্বৈরাচারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা। বলেন, ‘২০১১ সালে বলেছিলাম বদলা নয়, বদল চাই। এবার বলছি, বদল নয়, বদলা চাই। একটা করে ভোট দেবেন, আর বলবেন, দিলাম গেঁথে। ভোট দিয়েই মানুষের উপর অত্যাচারের বদলা নিতে হবে। মনে রাখবেন, এবারের ভোট গণতন্ত্রের মহাযুদ্ধ। দল বেঁধে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিন।’
২০১১ সালে সরকার পরিবর্তনের ভোটে মমতা স্লোগান তুলেছিলেন ‘বদলা নয়, বদল চাই’। ক্ষমতার পালাবদলের সাক্ষী থেকেছিল রাজ্যবাসী। উৎখাত হয়েছিল ৩৪ বছরের বাম সরকার। তৃণমূলের দাবি, পরবর্তী ১৫ বছর উন্নয়নের সাক্ষী থেকেছে বাংলা। এখন সেই উন্নয়নের বাংলা ‘দখল’ করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। আর একাজে তাদের হাতিয়ার কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং মোদি-শাহের ‘জুমলা’। মমতার তোপ, ‘বঙ্গবাসীর সেন্টিমেন্টে সুড়সুড়ি দিয়ে, পালটানো দরকার স্লোগান নিয়ে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করছেন দিল্লির বাবুরা। অথচ বাংলার ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রেখে মানুষকে ভাতে মারার চেষ্টা চালিয়ে ভোট আসতেই সোনার বাংলা গড়ার কথা বলছে। সুশাসনের অজুহাতে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ভোটাধিকার থেকে শুরু করে বাইক চালানোর অধিকার পর্যন্ত। সাঁজোয়া গাড়ি, আড়াই লক্ষের বেশি বাহিনী নামিয়ে শান্তিপূর্ণ বাংলায় যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করে ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরি করা হচ্ছে।’ এমন একাধিক উদাহরণ সামনে রেখে বাংলায় ভোট লুটের ‘বিজেপি-কমিশন চক্রান্ত’ সর্বসমক্ষে আনেন মমতা। বলেন, ‘এবারের ভোট যে সে ভোট নয়। বাংলায় থাকতে পারবেন কি না, নিজের ভাষায় কথা বলতে পারবেন কি না, এনআরসি করে আপনাকে ভিন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে কি না, মাছ-মাংস খেতে পারবেন কি না— সবই নির্ভর করবে আপনার একটি ভোটের উপর। তাই খুব সতর্ক হয়ে ভোট দিতে হবে।’ জনগণের উদ্দেশে তাঁর সতর্কবার্তা, ‘ওরা ইভিএম খারাপ করে দেবে। জীবনে তো অনেকবার লাইনে দাঁড়িয়েছেন। একটু অপেক্ষা করবেন। নতুন মেশিনে ভোট দেবেন। নাহলে চিপ ঢুকিয়ে রেখে দেবে।’
আজ রাজ্যের যে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ, সেখানকার জনগণের উদ্দেশে তৃণমূল সুপ্রিমোর পরামর্শ, ‘এসআইআরের সাপ্লিমেন্টরি লিস্ট দেখে নেবেন।’ ‘বহিরাগত ভোটারদের দাপাদাপি ঠেকানোর দাওয়াইও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘রাজস্থান, বিহার থেকে ট্রেনে করে এসে ভোট দেবে? এলেই আটকে রাখবেন। মায়েদের দায়িত্ব দিলাম। যারা ফলস ভোট দিয়ে পালানোর চেষ্টা করবে, তাদের কিছুতেই পালাতে দেবেন না।’ ভোটের মুখে রাজ্যের ন’হাজার মানুষকে হজে পাঠানোর পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ঘোষণা, ‘হজে যাঁরা যেতে চান, যাঁদের অনুমতি আছে, আমাদের হজ কমিটি তাঁদের যাওযার ব্যবস্থা করবে। কিন্তু দয়া করে ভোটটা না দিয়ে যাবেন না।’