• বেসরকারি হাসপাতালের খরচ কমবে? বড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র, স্বস্তি পাবেন রোগীর আত্মীয়রা
    এই সময় | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • বেসরকারি হাসপাতাল (Private Hospitals) মানেই যেন চিকিৎসার আকাশছোঁয়া বিলের (bill) অভিযোগ। বিল মেটাতে গিয়ে ঘটিবাটি বিক্রি করে দেওয়ার খবরও হামেশাই শোনা যায়। সেই দিন শেষ হতে চলেছে। এ বার ট্রেড মার্জিনে ক্যাপ বসাতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতে একটা পেসমেকারের দাম ২ লক্ষ টাকা থেকে ২৫-৩০ হাজারে নেমে আসতে পারে।

    বেসরকারি হাসপাতালগুলি সাধারণত স্টেন্ট, ইমপ্ল্যান্ট, সিরিঞ্জের মতো চিকিৎসা সরঞ্জাম ডিস্ট্রিবিউটারের কাছ থেকে কেনে। তার পরে বিক্রি করে রোগীর কাছে। কিন্তু যে দামে কেনে তার থেকে অনেক বেশি দামে রোগীর কাছে বিক্রি করে। এই দামের ফারাকই ট্রেড মার্জিন। কেন্দ্রীয় সরকার এই মার্জিনের উপরেই ক্যাপ বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে হাসপাতালগুলি আসল দামের উপরে একটা নির্দিষ্ট সীমার বেশি আর বিল করতে পারবে না।

    তবে কী ভাবে ক্যাপ বসানো হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। এই নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল, বিমা সংস্থা এবং মেডিক্যাল ডিস্ট্রিবিউটারদের সঙ্গে আলোচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই ক্যাপ সিরিঞ্জ, গ্লাভস, ক্যানুলার মতো সাধারণ মেডিক্যাল সরঞ্জামের পাশাপাশি পেসমেকার, হার্ট ভালভের মতো দামি ডিভাইসের উপরেও বসবে।

    বেশি বিল নেওয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। দাবি করা হয়েছে, হাসপাতালগুলি চিকিৎসা সরঞ্জামের আসল দামের ১০ থেকে ৩০ গুণ পর্যন্ত বিল নিচ্ছে। যে সিরিঞ্জের দাম ৩ টাকা, সেটাই রোগীর কাছ থেকে ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। ৬ টাকার ক্যানুলার জন্য নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা।

    দামি ডিভাইসেও ছবিটা একই। একটি ২৫ হাজার টাকার পেসমেকারের জন্য ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়। জানা গিয়েছে, হার্ট ভালভের আসল দাম ৪ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। কিন্তু তার জন্য ২৬ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এখন ট্রেড মার্জিনে ক্যাপ বসালে এই দাম অনেকটাই কমে যাবে।

    বাড়তি বিলে শুধু রোগীর উপরে নয়, স্বাস্থ্যবিমা ইন্ডাস্ট্রিতেও প্রভাব পড়ছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে বিমার প্রিমিয়াম ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে জানা গিয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির হার ১৪-১৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের বাড়তি চার্জ, আধুনিক চিকিৎসার খরচ এবং দাবি (ক্লেম) বৃদ্ধির হার—এই সবই স্বাস্থ্যবিমার খরচ বাড়ার প্রধান কারণ।

  • Link to this news (এই সময়)