প্রবীণ ও বিশেষ ভাবে সক্ষম ভোটাররা বাড়িতে বসে ভোট দিতে পারবেন এ কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ভোটারদের এই সুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু এমন বহু মানুষ আছেন যাঁরা চলাফেরা করতে পারেন না বা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তাঁদের নেই। যেমন দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডির হাফিজুল ইকবাল। ৬০ বছর বয়স। চলাফেরা করতে পারেন না। পরিবারের দাবি, বার বার BLO-কে আবেদন করেছিলেন, ভোটটা বাড়িতে দেওয়ানোর ব্যবস্থা করা হোক। তা হয়নি। বাধ্য হয়ে তাঁকে টোটোয় করে টেনে আনতে হয়েছে ভোটকেন্দ্রে।
বলা হয় গণতন্ত্রের উৎসব নির্বাচন। সেই উৎসবে সামিল হতে বৃহস্পতিবার কুশমন্ডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে দেখা গেল এক অন্যরকম দৃশ্য। অসুস্থ রোগী, যিনি চলতে পারেন না, তাঁকেও টোটোয় করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হয়েছে পরিবারকে।
হাফিজুলের আত্মীয় রুবি সাহানার কথায়, ‘কমিশন অন্তত একটা গাড়ির ব্যবস্থা পারত। তা না পারলে বাড়িতে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। অসুস্থ ভোটারের জন্য বাড়িতে ব্যবস্থা করা গেল না? BLO-কে বার বার জানিয়েও কাজ হয়নি। তিনি জানান, এটা তাঁর হাতে নয়। বিডিও অফিস থেকে যা নির্দেশ দেবে, তা-ই হবে। কিন্তু তিনি ভোট দিতে চান। তাই টোটোয় করেই নিয়ে এসেছি।’
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূলের অম্বরীশ সরকারের অভিযোগ, ‘বেশ কিছু মানুষের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের যে দায়িত্ব পালন করা উচিত ছিল, তা তারা করেনি। বাড়িতে ভোট নেওয়ার প্রক্রিয়ায় কমিশনের খামতি আছে। আমার বুথেও ২-৩ জন আছেন।’
যদিও বিজেপি প্রার্থী তাপসচন্দ্র রায়ের দাবি, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তবে তাঁরা BLO-দের বলেছিলেন, অসুস্থ, বয়স্কদের বিষয়টি দেখার জন্য।