ভোট দিতে পারবেন চিত্রকর নন্দলাল বসুর নাতি এবং নাত বৌ। এমনটাই জানালেন নির্বাচন কমিশনেরই এক আধিকারিক। কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিষয়টি নন্দলাল বসুর পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন মহকুমাশাসক। অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁরা যেন আবার ভোট দিতে আসেন। মহকুমাশাসকের এই অনুরোধে নন্দনাল বসুর পরিবারের সদস্যেরা আবার ভোট দিতে যেতে রাজি হয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ এবং ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর হিসেব মতো ভোটার তালিকায় নাম থাকার কথা ছিল নন্দলালের নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর স্ত্রী দীপা সেনের। সেই মতো তাঁরা বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দিতেও যান। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেখানে বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তাঁদের জানান, ভোটার তালিকায় দু’জনেরই নাম নেই। এর পর বৃদ্ধ দম্পতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথাও জানান। কিন্তু তাঁদের রায়ের প্রতিলিপি দেখাতে বলা হয়। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের বলা হয় সিউড়িতে জেলাশাসকের দপ্তর থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। এর পর বৃদ্ধ দম্পতি আর ভোট না-দিয়েই ফিরে যান।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি জানার পরেই উদ্যোগী হয়েছিলেন বোলপুরের মহকুমাশাসক। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা খতিয়ে দেখে বিষয়টি প্রিসাইডিং অফিসারকে বুঝিয়েছেন। তার পর নন্দলাল বসুর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছেন মহকুমাশাসক। তাঁদের জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মীর ভুলের জন্য এই ঘটনা ঘটেছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছিল সুপ্রবুদ্ধ এবং দীপার। এ নিয়ে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, নন্দলাল বসুর নাতির করা আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। শীর্ষ আদালত ট্রাইব্যুনালকে প্রবুদ্ধদের আবেদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়। তার পর ট্রাইব্যুনালও বৃদ্ধ দম্পতির নামে ছাড়পত্র দেয়। তা সত্ত্বেও সমস্যায় পড়তে হল সুপ্রবুদ্ধ এবং দীপাকে।