ঠোঙা থেকে ঝালমুড়ি (Jhalmuri) খাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। একেবারে বাঙালি কায়দায়। হাত মুখ পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে না। তার আগেই মুড়ি পৌঁছে যাচ্ছে মুখে। ঝাড়গ্রামের সেই দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই নিয়ে তৃণমূলের কটাক্ষের পাল্টা জবাব দিলেন মোদী। বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) সভা থেকে অনেকটা ব্যঙ্গের সুরে বললেন, ‘আমি ঝালমুড়ি খেলাম আর ঝাল লাগল তৃণমূলের।’
ঝাড়গ্রামে প্রচারে এসে মোদী যে গাড়ি থামিয়ে ঝালমুড়ি খেতে নেমে পড়বেন, অতি বড় বিজেপি সমর্থকও ভাবতে পারেননি। ঝালমুড়ির সঙ্গে বাঙালির নাড়ির টান। ভোটের আগে তার সঙ্গে একাত্ম হতেই মোদীর ঝালমুড়ি অভিযান বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চ্যালেঞ্জ, ‘ঝালমুড়ি খেলেন, মাছ খেয়ে দেখান।’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানা ছিল কিছুটা ভিন্ন সুরে, ‘আইনশৃঙ্খলা কতটা ভালো সেটা বোঝা গেলো, না হলে প্রধানমন্ত্রী কী আর ঘুরে ঘুরে ঝালমুড়ি খেতে পারতেন?’
মোদী অবশ্য এ সবের কোনও জবাব দেননি। তিনি এই সমালোচনাকে ‘ঝাল লাগা’ হিসেবেই দেখছেন। মোদীর কথায়, ‘শুনছি ঝালমুড়ি নিয়ে কেউ কেউ ঝটকা খেয়েছে। খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের।’ এখানেই থামেননি তিনি। কিছুটা কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘৪ মে ফলপ্রকাশের পরে শুধু মিষ্টি নয়, ঝালমুড়িও বিলি হবে।’
বাংলার নির্বাচন আর হিংসা সমার্থক বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। তবে এ বার রেকর্ড হয়েছে বলে দাবি করলেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘গত ৫০ বছরে এই দৃশ্য দেখা যায়নি। বাংলার ভোট হিংসা এ বারেই সবচেয়ে কম।’ মোদী মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ আগেই ভোট শতাংশের হিসাব দিয়েছে কমিশন। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত বাংলায় ভোট পড়েছে ৪১.১১ শতাংশ। মোদীর দাবি, ‘যখনই বিপুল ভোট পড়েছে, তখনই বিজেপি জিতেছে। এ বারও বিজেপি জিতবে।’
এ দিন মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়েও তৃণমূলকে আক্রমণ শানান মোদী। লোকসভায় একজোট হয়ে বিল আটকে দিয়েছে বিরোধীরা। ভোটের প্রচারে এসে সেই প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে আক্রমণ করে মোদী বললেন, ‘লোকসভায় বাংলার মেয়েরা আরও বেশি জায়গা পাক, তৃণমূল চায় না। বাংলার মা-বোনেরাই শাস্তি দেবে।’ কৃষ্ণনগরে মতুয়াদের বড় অংশের বাস। তাঁদেরও আশ্বস্ত করেন মোদী, ‘আপনাদের গায়ে কেউ হাত দিতে পারবে না। আরও দ্রুত গতিতে সিএএ-তে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।’