• কমিশন মুছেছে ‘ভগবানের’ নাম! হতাশ গলায় বললেন, ‘বিহারীকে বানিয়েছ বাংলাদেশি’
    প্রতিদিন | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোট দিতে যাওয়ার তাড়া নেই। নেই উৎসবের (পড়ুন গণতন্ত্রের উৎসব) মেজাজ। অন্যান্য দিনের মতো ভোটের দিনও স্বাভাবিক কাজকর্ম করেই দিন কাটাচ্ছেন ‘তাঁরা’। তাঁরা আর কেউ নন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া লক্ষ লক্ষ ‘নাগরিক’। প্রশ্নটা যদিও সেখানেই। তাঁরা সত্যিই কি ভারতের নাগরিক? নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা আবেদন করতে পারবেন ট্রাইব্যুনালে। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে (WB Assembly Election 2026) তাঁরা আর অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার নয়, এবারের নির্বাচন নাগরিকত্ব রক্ষার নির্বাচন। তাই বলাই যায়, ‘এবার ভোট তাঁদের জন্য যাদের এবার ভোট নেই!’

    ‘বিহারীকে বাংলাদেশি বানিয়েছে নির্বাচন কমিশন’। আলিপুরদুরদুয়ার বিধানসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রমোদ নগর এলাকায় বসে এই কথাগুলিই আওড়াচ্ছিলেন ২৫ বছর ধরে বাংলায় বসবাসীকে ভগবান শাহ। দিল্লি, বিহার সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে কাজ করতেন তিনি। বর্তমানে প্রমোদ নগরে ডাব বিক্রি করে সংসার চালান। প্রতিদিনের মতো ভোটের দিনও নিজের কাজ নিয়ে ব্য়স্ত তিনি। ভগবান জানান, ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। ২০০৭ সাল থেকে নিয়মিত বাংলার একাধিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। আসলে পেট বড় বালাই। তাই ভোটে নাম তোলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি তিনি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর ও তাঁর পরিবারের ৩ সদস্যের নাম বাদ চলে গিয়েছে। তিনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন কি না তা জানা না গেলেও ভোট দিতে না পেরে মন খারাপ ভগবানের। তাই আজ তিনি বুথমুখী হননি।

    ভগবান যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন সেই বাড়ির মালিক কলকাতায় থাকেন। কিন্তু ভোট এই এলাকাতেই। তাই সকাল সকাল কলকাতা থেকে বাড়ি ফিরেছেন বাড়িওয়ালা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘদিনের ভাড়াটিয়া ভগবানদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে যাওয়ায় মন খারাপ বাড়ির মালিক মনোরঞ্জন সুত্রধরের। তাঁর কথায়, “এ যেন কীরকম বিভেদ তৈরি হয়ে গেল একই বাড়িতে।”

    অন্যদিকে, ছেলে-মেয়ের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও তাঁর নাম বাদ গিয়েছে। তাই সকাল থেকেই ভোটার কার্ড হাতে নিয়ে প্রমোদনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঘোরাফেরা করছেন মনোয়ারা বেগম। কিন্তু বুথে ঢোকার সাহস পাচ্ছেন না তিনি। তিনি আদৌ ভারতের নাগরিক? প্রশ্ন ঘুরছে মাথায়। সেই মানসিক চাপ থেকেই আজ আর বাড়িতে বসে থাকতে পারেননি মনোয়ারা। তিনি জানেন, এর আগে একাধিকবার বাংলায় ভোট দিলেও এবার আর তিনি ভোট (WB Assembly Election 2026) দিতে পারবেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও বুথের সামনে চলে গিয়েছেন। তাঁর শেষ ভরসা ট্রাইব্যুনাল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)