‘হীরক রানি’ থেকে ‘হাল্লার রাজা’, বঙ্গের ভোটরঙ্গে প্রয়াণের তিন দশক পরেও ‘জীবিত’ সত্যজিৎ
প্রতিদিন | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
‘আসছে হাল্লার দল।’ সম্প্রতি বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটপ্রচারে এভাবেই আক্রমণ করেছেন বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে। ভাবলে আশ্চর্য হতে হয় ১৯৬৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছবির সেই যুদ্ধবাজ রাজ্যের প্রসঙ্গ কী করে এই ২০২৬ সালে পুনরুচ্চারিত হতে পারে! কাকতালীয় ভাবে ২৩ এপ্রিল সত্যজিৎ রায়ের প্রয়াণবার্ষিকী। আর এদিনই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (WB Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোট। ভেবে দেখলে এ কোনও সমাপতন নয়। বঙ্গ রাজনীতিতে সেই কবে থেকে মিশে গিয়েছে সত্যজিতের সৃষ্টি। এত বছর পরেও তার অন্যথা হয়নি। হয়তো আগামিদিনেও হবে না।
ভোট এলেই শুরু হয় প্রচার। শাসক দল যেমন বিরোধীদের দিকে নিশানা করে, তেমনই বিরোধীরাও শাসকের উদ্দেশে কুকথা বলতে থাকে। আর এই আক্রমণে দু’পক্ষেরই অন্যতম ভরসা সত্যজিৎ। কয়েকদিন আগে বাঁকুড়ার ওন্দার সভা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ”এই যে হীরকরানি আছেন, জানেন তো হীরকরানি কে? এই হীরকরানিকে বিদায় জানানোর সময় এসে গিয়েছে।” ১৯৮০ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘হীরক রাজার দেশে’। সেই ছবির অনুষঙ্গ তুলেই মমতার উদ্দেশে কটূক্তি করেন শাহ। আবার মমতার মুখে ‘হাল্লা’ প্রসঙ্গের কথা তো লেখার শুরুতেই উল্লেখিত হয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ”আসছে হাল্লার দল।… সত্যজিৎ রায়ের একটা সিনেমা ছিল না? সেই দিল্লির বর্গিরা আসছে।”
একটি ছবির বয়স ৫৭ বছর। একটির বয়স ৪৬ বছর। খোদ স্রষ্টা পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন ৩৪ বছর হয়ে গেল। তবু স্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টির প্রচ্ছন্ন ছায়া ভেসে রয়েছে বঙ্গ সংস্কৃতির আনাচে কানাচে। আজও। রাজনীতির মঞ্চও তার ব্যতিক্রম নয়। আসলে সত্যজিতের ছবির রাজনৈতিক ভাষ্য তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে রয়েছে। আর সেই ভাষ্য কোনও জটিলতার মধ্যে দিয়ে যায় না। খুব সোজা ভাবে তা মনকে ছোঁয়। হীরকরাজ্যের মগজধোলাই যন্ত্র কিংবা হাল্লার মন্ত্রীর ষড়যন্ত্র, বরফি নামের জাদুকরের জাদু-ওষুধের আভ্যন্তরীণ বক্তব্য বোঝাটা দর্শকের কাছে কঠিন হয় না। তাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্ষমতা, অপশাসন, যুদ্ধবাজ শক্তি, একনায়কত্বের নানা রূপকল্প খুঁজে পায় সত্যজিতের ছবিতে। আসলে রাজনীতির ভিতরকার ছবিটা আজও পালটায়নি। আগামিদিনেও পালটাবে না। আর তাই সহজেই ভোটপ্রচারে একে অপরের দিকে আঙুল তুলতে সত্যজিতেই ভরসা থাকবে রাজনীতিবিদদের। ভোট রাজনীতির মতো সত্যজিৎও যে চির প্রাসঙ্গিক।