• আই-প্যাক মামলা: অফিসারেরা তো সরাসরি ভিক্টিম নন, বলল সুপ্রিম কোর্ট, জবাবে কী বলল ইডি?
    এই সময় | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • আই-প্যাক কাণ্ডে ইডি অফিসারেরা সরাসরিই ভিক্টিম কি না, সেই প্রশ্ন তুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, অফিসারেরা তো নিশ্চয়ই কারও প্রতিনিধিত্ব করছিলেন সেখানে। ইডি অবশ্য শুনানি চলাকালীনই আদালতের প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। ইডির আইনজীবী তথা কেেন্দ্রর সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার বক্তব্য ছিল, ইডি অফিসারেরা সরাসরি ভিক্টিম কারণ, তাঁদের হাত থেকেই নথি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

    বৃহস্পতিবারের শুনানিতে তুষার দাবি করেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তদন্ত করতে গিয়ে ইডি-র আধিকারিকেরা মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা হারাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তল্লাশির সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। ইডির তল্লাশি অভিযানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত হওয়াকে অস্বাভাবিক বলেই ব্যাখ্যা করেছেন তুষার। তাঁর কথায়, ‘আন ইউজ়ুয়াল প্রেজেন্স অফ সিএম, আন ইউজ়ুয়াল প্রেজ়েন্স অফ ডিজিপি৷’ তাঁর সংযোজন, ‘ডিজি নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি গিয়েছিলেন কারণ, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা জড়িত ছিল। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রী যেখানে যান, ডিজিও সেখানে যান!’

    মুখ্যমন্ত্রী এবং ডিজির বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে ইডি। তুষার বলেন, ‘আদালতের কাছে আবেদন, সিবিআইকে তদন্তভার দেওয়া হোক। তদন্ত করা হোক মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিপি এবং পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে। প্রয়োজনে আদালতের নজরদারিতে তদন্ত হোক।’

    শুনানির শুরুতে তুমুল বাকবিতণ্ডাতেও জড়িয়েছে কেন্দ্র এবং রাজ্য। রাজ্য মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তা নিয়েই বচসায় জড়ান তুষার এবং রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। মেনকা বলেন, ‘মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আমরা সওয়াল করেছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কিছু যুক্তি দেখিয়ে আদালতের অপব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতের কার্যক্রম যেন রাজনৈতিক প্রচারের অস্ত্র না হয়।’ এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি পিকে মিশ্র বলেন, ‘হ্যাঁঁ, আমরা দেখেছি। আমরা মিডিয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারি না৷ তাঁরা লাইভ সম্প্রচারও করেন৷’

    এর পরেই ইডির আইনজীবীর উদ্দেশে মেনকাকে বলতে শোনা যায়, ‘হি ইজ আনইলেকটেড ক্রাউন৷ সলিসিটর জেনারেল কখনই প্রতিপক্ষের আইনজীবীকে সিট ডাউন বলতে পারেন না৷’ পাল্টা তুষার বলেন, ‘মর্যাদা রেখে নীরবতা বজায় রেখেছি। আমি স্ট্রিট ফাইটারের মতো আচরণ করতে পারি না।’ পরে বিচারপতি মিশ্র বলেন, ‘আদালতের ভিতরের কথা আর বাইরের কথার কেন তুলনা করছেন? আমরা সব পক্ষের যুক্তি শুনতে চেষ্টা করি। মিডিয়াকে আমরা থামাতে পারি না। আমরা কিছু বললেই সেটা মিডিয়ায় তুলে ধরা হয়। তারপর দুই পক্ষই সেটাকে ব্যবহার করে। অনেক সময় আমাদেরও ভাবতে হয়, আমরা আদৌ কিছু বলব কি না।’

  • Link to this news (এই সময়)