• ‘ভোটারদের গায়ে হাত পড়লে খাঁড়িতে জায়গা হবে’, হুঁশিয়ারি অমিত শাহের
    এই সময় | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • হুগলির তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই। তবে বাংলার ভোটের উত্তাপ (West Bengal Assembly Election 2026) তার থেকেও বেশি। কপালের ঘাম মুছতে মুছতেই বৃহস্পতিবার হুগলির বলাগড়ের নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Minister of Home Affairs Amit Shah)। হুঁশিয়ারির সুরে বলে দিলেন, ‘ভোটারদের গায়ে হাত পড়লে খাঁড়িতে জায়গা হবে।’ সিন্ডিকেট বাহিনীকে উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

    বাংলার ভোটে অযোধ্যা, ৩৭০ ধারা থেকে মাওবাদী, জঙ্গি, সব বিষয়ই ছুঁয়ে গেলেন শাহ। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতো তিনিও স্বীকার করে নিলেন, ‘মোটের উপরে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে।’ এর যাবতীয় কৃতিত্ব দিলেন নির্বাচন কমিশনকেই। একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে দিলেন, ‘৪ মে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। তৃণমূল রাজ্য থেকে মুছে যাবে।’ এর পরেই রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে বলে দেন, ‘তৃণমূলের গুন্ডারা কান খুলে শুনে রাখুন, ভোটের দিন একজনের গায়ে হাত পড়লে খাঁড়িতে জায়গা হবে।’

    এ দিন অনুপ্রবেশ ইস্যুই ছিল শাহের ভাষণের মূল সুর ছিল। তাঁর কথায়, ‘শুধু ভোটার লিস্ট থেকে নয়, দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াব।’ শাহের দাবি, তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা অনুপ্রবেশকারীদের জামাই আদর করে ভোটার লিস্টে জায়গা করে দিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলেই একজন অনুপ্রবেশকারীও দেশে ঢুকতে পারবে না। আর যারা ঢুকে পড়েছে, তাদের তাড়ানো হবে।’

    বলাগড় দু’টি জিনিসের জন্য বিখ্যাত। নৌকো আর আলু। এক সময়ে এই এলাকায় প্রচুর নৌকো তৈরির কারখানা ছিল। এখন বেশিরভাগই ধুঁকছে। শাহের কথায়, ‘তৃণমূল সরকারের জমানায় ৪১টি কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমরা আবার সব কারখানা চালু করব।’ আলু কৃষকরা পিএম কিষাণ নিধি সম্মান যোজনা প্রকল্পের সুবিধা পান না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শাহের কথায়, ‘এখানকার আলু চাষিরা বঞ্চিত। কোনও দিন দাম পান না। বিজেপি সরকার বলাগড়ের আলু বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওডিশায় পাঠাবে। বস্তা পিছু অন্তত ২৫ টাকা বেশি মিলবে।’

    বিজেপি জিতলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবে, তারও ইঙ্গিত দেন শাহ। তবে সেই পুরোনো সুরেই। তাঁর কথায়, ‘বাংলা মিডিয়ামে পড়া, বাংলা বলা, বাংলার মাটির লোক মুখ্যমন্ত্রী হবেন। অন্য কেউ হবেন না।’ দেশ থেকে মাওবাদীদের মুছে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে জঙ্গিদের তোপ দাগেন তিনি। শাহের অভিযোগ, ‘কংগ্রেস, তৃণমূল, বামপন্থীরা জঙ্গিদের বিরিয়ানি খাওয়াত। বিজেপি সরকার এসে অপারেশন সিঁদুর করেছে।’ উরিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রসঙ্গও টানেন। শাহের সাফ কথা, ‘পদ্মে ভোট দিন। বাংলাকেও অনুপ্রবেশ মুক্ত করব। সোনার বাংলা হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)