ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (SIR) পরে প্রথম নির্বাচন হচ্ছে বাংলায়। প্রথম দফার ভোটে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৫২টি ভোটে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে। কেন এত ভোট পড়ল? বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গীর একটি প্রচারসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এত ভোট কাটার পরেও এত শতাংশ ভোট কেন পড়ছে জানেন? আমার মনে হয়, মানুষ ভেবেছে এটা তাঁদের অধিকার রক্ষার লড়াই। কারণ এর পর NRC করবে ডিলিমিটেশন করবে, সেই বিলও আনা হয়েছিল।’
রাজনৈতিক ভাবে SIR-এর প্রভাব বঙ্গের ভোট পড়বে তা বলাইবাহুল্য। তবে ভোটের শতাংশে হেরফের হবে কি না তা নিয়ে জল্পনা ছিল। এ দিন ভোট শুরু হতেই দেখা যায়, সকাল ১১টার মধ্যেই একাধিক কেন্দ্রে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়ে। বেলা বাড়লে ভোট শতাংশ বাড়তে থাকে। মমতা বলেন, ‘মানুষ জানে, তৃণমূলকে ভোটটা না দিলে আমও যাবে, ছালাও যাবে। তার অধিকার যাবে। তার সম্পত্তি যাবে। তার ব্যবসা যাবে। বিজেপির এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দেবে।
প্রথম দফার ভোটের দিনেই রাজ্য প্রচারে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের সভা থেকে মোদী বাংলার ভোট নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন। তুলনামূলক কম অশান্তির কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা শোনা যায় তাঁর মুখে। সেই সভা থেকেই মোদীর বক্তব্য, ‘যখনই বিপুল ভোট পড়েছে, তখনই বিজেপি জিতেছে। এ বারও বিজেপি জিতবে।’ এই দাবির সমালোচনা করেন মমতা।
মোদীকে উদ্দেশ্য করে মমতা বলেন, ‘বাংলায় এসে ভোটের দিন বলছেন, আপনি জিতছেন? এটা আপনি বলেন কী করে? ভোট তো মানুষ দেবে। যত ভোট পড়ছে, সব আপনার এটা বলছেন কী করে। খবর পেয়েছি, ৪তে থেকে গণ্ডগোল হবে। তা হলে কী প্ল্যান করেছেন, গন্ডগোল করা প্ল্যান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ছাপ্পা দেওয়ার প্ল্যান করা হয়েছে। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আপনারা যেটাই করবেন, সেটাই আপনাদের বিরুদ্ধে যাবে।’