• ৪ মে দেখবেন, বিজেপি জ্বলছে আর লুচির মতো ফুলছে: মমতা
    আজকাল | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথম দফার ভোট চলছে রাজ্যে। অন্যদিকে, কলকাতায় ভোটপ্রচারে ব্যস্ত তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালি বিধানসভার প্রার্থী সন্দীপন সাহার সমর্থনে বৌবাজার ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মোড়ে সভা করেন। 

    সকলের মঙ্গল কামনা করে নিজের বক্তৃতা শুরু করেন মমতা। ব্যবসায়ীদের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “বৌবাজার সোনার হাব। মেট্রোরেলের ভুলের কারণে অনেক পরিবার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়েছে। যখন মেট্রোর জন্য সব ভেঙে পড়েছিল, তখন আমি পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলাম।  কোভিডের সময় বড়বাজার থেকে কোলে মার্কেট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন আমি রাস্তায় নেমেছিলাম। বাজার খুলিয়েছিলাম। বিজেপি সরকারের নোটবন্দির সময় আমি ছিলাম। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ইডি সিবিআই অভিযানের সময় আমি পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।”

    ভোটের আবহে ঝালমুড়ি রাজ্যের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয়। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে ছিল ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “ঝালমুড়ি খেয়েছি বলে তৃণমূলের ঝাল লেগেছে।” সেই ঝালমুড়ি প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “ঝালমুড়ি বাড়ি থেকে বানিয়ে এনেছিল। পকেট থেকে সাজানো চকচকে ১০ টাকার নোট বার করেছিল। আমার কাছেই ১০ টাকার নোট থাকে না। খুচরো পয়সা থাকে। খন বলছে জিতে ঝালমুড়ি খাবেন। আপনাকে ভেলপুরি পাঠাব। দিল্লিতে পাওয়া যায়। ওখানে ঝালমুড়ি পাওয়া যায় না। আপনি ১০ টাকা নিয়ে এসেছেন। আগের বার বলেছিলেন চায়েওয়ালা, এখন ঝালমুড়ি দেখাচ্ছেন? ঝালমুড়ির ঝাল খেয়ে তো আমরা অভ্যস্ত। আপনি কখনও মাছভাত খেয়েছেন? কোনও দিন খেয়েছেন মাংসভাত? আমি ঠেকুয়া, ধোসা, লিট্টি, ছাতু খাই। ইদের দিন সিমুইও খাই। আমাকে ধর্ম শেখাবেন না। একটা চেয়ার কখনও মিথ্যের ফুলঝুরি ওড়াতে পারে না।’’

    কৃষ্ণনগরের সভায় মোদি বলেন, “গত ৫০ বছরে এরকম ভোট বাংলায় হয়নি। শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে সফল নির্বাচন কমিশন।” মোদির কথায়, “ভয় থেকে মুক্তি পেতে ভোট দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গবাসী।” মোদি আরও বলেন, “অনেক জেলাতেই তৃণমূলের খাতা খুলবে না। প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদান হচ্ছে।”

    সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “ভোটের দিন সকালে বেরিয়ে পড়েন, আর গণনার দিন এয়ার কন্ডিশনিং গুহায় বসে পড়েন।” তিনি আরও বলেন, “আজ সকাল থেকে এসেছিল গরম করতে। বিজেপির এজেন্ট তো নেই। ও তো এজেন্সি। চমকাতে এসেছিল প্রশাসনকে, যাঁরা এখন ওঁদের হয়ে কাজ করছেন তাঁদের।”  এখানেই থামেননি তিনি। মমতা আরও বলেন, “ভোটের দিন এখানে এসে বলছেন আপনারা জিতছেন! এটা আপনি বলতে পারেন? জনগণকে বিশ্বাস করুন। এটা তো জনগণ ঠিক করবেন, কাকে জেতাবেন। বিজেপি পার্টিটাকে বলছি, মহামুর্খ হন কী ভাবে। তা হলে কি ইভিএম মেশিন ফিট করে রেখে দিয়েছেন? না হলে বলেন কী ভাবে যত ভোট পড়ছে সব আপনার?’’

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ভোটদানের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। সেই বিষয়ে মমতা বলেন, “মানুষ কেন ভোট দিচ্ছে জানেন? ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তুলেছি। ট্রাইবুনাল কিচ্ছু তুলতে পারেনি। সেটা ওদের নির্দেশে কাজ হয়েছে কি না জানি না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। মানুষ আজ জানে, এই লড়াইটা তাঁদের অধিকার রক্ষার লড়াই। তৃণমূলকে ভোটটা না দিলে তাঁর অধিকার যাবে। আমও যাবে ছালাও যাবে। তার অধিকার, সম্পত্তি, ঠিকানা, ব্যবসা যাবে।  বিজেপির এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ কেন ভোট দেবে? বাংলার মানুষ বাইরে গেলে তোমরা অত্যাচার কর? বাংলা সবাইকে নিয়ে চলে। বাংলা সবার ধর্ম মানে, সবাইকে সম্মান করে। বাংলা জ্বলছে না, ভোট দেখে ৪ তারিখে বুঝবেন, ভোটের বাক্স খুলবে আর দেখবেন, বিজেপি জ্বলছে, আর লুচির মতো ফুলছে। এত ভোট কাটার পরেও এত শতাংশ ভোট কেন পড়েছে জানেন, আমার মনে হয়, আমি ভুলও হতে পারি, কারণ মানুষ জানে এই ভোটটা তার অধিকার রক্ষার লড়াই।”

    মমতা বলেন, “এরপরেই এনআরসি করার প্ল্যান করবে। ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে এসেছিল। মহিলা বিল পাশ হয়েছে ২৩ সালে। আমরা সবাই ভোট দিয়েছি। বিল হয়ে গিয়েছিল, ৪৫০ ভোট পড়েছিল। তিন বছরে নোটিফিকেশন করলেন না কেন? আসলে প্ল্যানটা কী? প্ল্যান এ, সামনে মহিলার নাম রাখা। প্ল্যান বি, ডিলিমিটেশন করে জিতবে না বলে ৫৪৩ জায়গায় ৮৫০ করার। বঙ্গভঙ্গ করবে, সারা দেশ ভঙ্গ করবে শুধুমাত্র নিজের জেতার স্বার্থে। পরাস্ত করে সবাই দেখিয়ে দিয়েছি, তোমার প্রতি মানুষের আস্থা নেই। সেই দিনই পদত্যাগ করা উচিত ছিল  প্রধানমন্ত্রীর। পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। অনেক দুঃসময় আসছে। আগে দিল্লি সামলান, তারপর বাংলার দিকে তাকান।”  

    রাজ্যের শাসনব্যবস্থা নিয়ে মমতা বলেন, “ছ’মাস ধরে এসআইআরের নামে রাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে। এখানে সব দুর্যোধন, দুঃশাসনকে বসিয়ে দিয়েছে। তাঁরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। নবান্নটাকে তছনছ করে দিয়েছে। এর দায়িত্ব কিন্তু ওদের নিতে হবে। কোনও ঘাপলা হলে সব ওদের ঘাড়ে যাবে।” তিনি বলেন, “কেন বলছেন টিভিতে যে ৪টের পর থেকে ঝামেলা হবে। মিলিটারিরা কি ছাপ্পা মারবে? আর ইভিএম দখল করবেন? এত সস্তা? অন্যরা প্রতিবাদ না করলেও বাংলা মানুষ জানে কী ভাবে ভোট রক্ষা করতে হয়। 

    বক্তৃতায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন নিজের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন মমতা। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তৃতায় বাঙালি মনীষীদের অসম্মানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিজেপি নেতাদের বক্তৃতায় বাঙালি মনীষীদের অপমানের কথা উল্লেখ করেন মমতা। নানা ধর্মীয় স্থানে রাজ্য সরকারের কাজের কথাও উল্লেখ করেন মমতা। বিজেপিকে চাকরি প্রসঙ্গে তোপ দাগেন তিনি। বিজেপি সরকারকে স্বৈরাচারি, অত্যাচারি, ভোটকাটারি বলে দাগিয়ে দিয়েছেন মমতা।
  • Link to this news (আজকাল)