• কোচবিহারে কান্নায় ভেঙে পড়লেন হাজারো ভোটার
    আজকাল | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • মনিরুল হক, কোচবিহার: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে উৎসবের আবহে। কিন্তু এই গণতান্ত্রিক উৎসবের মাঝেই কোচবিহার জেলায় উঠে এল এক ভিন্ন ছবি। যেখানে হাজার হাজার মানুষ ভোট দিতে না পেরে ক্ষোভে, হতাশায় এবং চোখের জলে ভেঙে পড়ছেন।

    প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, এবারে কোচবিহার জেলায় মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার ৭২৫ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে ভোটের দিন বুথের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বহু মানুষ। অনেকেই ইতিমধ্যে নাম পুনরুদ্ধারের জন্য ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন।

    নাটাবাড়ি বিধানসভার গুড়িয়াহাটি এলাকার বাসিন্দা সীমান্ত পাল বলেন, “আমার মা ও স্ত্রীর নাম তালিকায় রয়েছে, তাঁরা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু আমার নাম 'ডিলিট' হয়ে গিয়েছে। সবাই যখন ভোট দিচ্ছে, আমি তখন বাইরে দাঁড়িয়ে দেখছি এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট।” তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির কারণেই তিনি ভোট দিতে পারেননি।

    একইভাবে কোচবিহার দক্ষিণের ভোটার বাবর আলি জানান, “আমরা বহু বছর ধরে এখানে ভোট দিচ্ছি। হঠাৎ নোটিস এল, তারপর নামই বাদ হয়ে গেল। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছি, কিন্তু এখনও নাম ওঠেনি। ভোটের দিন বাড়িতে বসে অন্যদের ভোট দিতে দেখছি, খুব খারাপ লাগছে।”

    রেজিয়া খাতুন নামে নাম বাদ যাওয়া এ ভোটার বলেন, “আমাদের দুই বোনের নাম বাদ পড়েছে। কেন বাদ গেল বুঝতে পারছি না। এখন ভয় হচ্ছে ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব নিয়েও সমস্যা হবে না তো!”

    জানা গিয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে কোচবিহারে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৪ লক্ষ ৯০ হাজার ৭৮৯। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় মৃত, 'ডুপ্লিকেট', স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত মিলিয়ে ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৩৭০ জনের নাম বাদ যায়। এরপর ৪ লক্ষের বেশি ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ দেখিয়ে নোটিস দেওয়া হয়।

    চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর আরও ৮ হাজার ৪২৬ জনের নাম বাদ পড়ে এবং ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ১০৭ জনের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে  আদালতের নির্দেশে একাধিক সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৩৮২ জনের নাম পুনরায় যুক্ত হলেও, অন্যদিকে ১ লক্ষ ২০ হাজার ৭২৫ জনের নাম চূড়ান্তভাবে বাদ পড়ে যায়।

    এই বিপুল সংখ্যক ভোটার নাম বাদ পড়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে। ভোটের দিন বুথের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষগুলোর চোখের জল যেন গণতন্ত্রের বড় এক বাস্তবতাকে সামনে এনে দিয়েছে ভোটের অধিকার হারানোর বেদনা। এখন সকলের নজর ট্রাইব্যুনালের দিকে, ভবিষ্যতে তাঁরা আদৌ তাঁদের অধিকার ফিরে পাবেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
  • Link to this news (আজকাল)