• আলু নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনীতির অভিযোগ বেচারামের
    আজকাল | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • মিল্টন সেন: "কাউকে গীতা ছুঁয়ে কাউকে কোরান ছুয়ে শপথ করাচ্ছে। বলছে বিজেপিকে ভোট দিতে হবে। এরকম রাজনীতি চলছে।" বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা বলেছেন সিঙ্গুরের প্রার্থী বেচারাম।মান্না। তিনি অভিযোগ করেছেন, "আলু নিয়ে ওদের মায়া কান্না। উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে কুড়ি লক্ষ মেট্রিক টন আলু তারা কিনবে। তাও আবার ৬৫০ টাকা কুইন্টাল দামে। আমাদের মা মাটি মানুষের সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই ৯৫০ টাকা কুইন্টাল এবং প্রত্যেক কৃষকের থেকে ৭০ প্যাকেট করে আলু কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পর্যন্ত আমাদের রাজ্যে চার লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার চারশ পঁচাত্তর কুইন্টল আলু পটেটো প্রোকিয়র্মেন্ট স্কিমে নেওয়া হয়েছে। সুফল বাংলায় ৫৬ হাজার ৯৫৫ কুইন্টাল আলু আমাদের কেনা হয়েছে। মানুষের স্বার্থে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আলু চাষীদের সুবিধার্থে এই কাজ করেছেন। অনুকুল আবহাওয়া থাকায় পশ্চিমবঙ্গ উত্তর প্রদেশ গুজরাট পাঞ্জাব সকল জায়গায় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।" 

    বেচারাম আরও বলেছেন, "ভোটের মুখে আলু নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে। আজকে বিজেপি নিজেদের আলু কৃষকদের বন্ধু বলছে। অথচ তাদের রাজ্য ইউপিতে ৬৫০ টাকা কুইন্টাল আলু কিনছে। আর আমরা ৯৫০ টাকা কুইন্টাল আলু কিনছি। সব থেকে বড় কথা এবারে ৭৫ লক্ষ ১০ মেট্রিক টন আলু আমরা ষ্টোরে রাখতে পেরেছি। এটা সর্বকালের রেকর্ড।"

    রাজ্যের মন্ত্রীর আরও দাবি, "আলুর দাম যখন বাড়ছে তখন আমাদের রাজ্য থেকে অনেক আলু বাইরে গিয়েছে। আরও বাইরে যাওয়ার জন্য কৃষকরা যখন রেকের আবেদন করছে। রেল রেক দেবো বলে, দিচ্ছে না। এর কারণে আলু পচে যাচ্ছে। ভোটের মুখে আলুর দাম যাতে না বাড়ে রেল অসহযোগিতা করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিজেপির মাধ্যমে। আজকে যদি রেক দিত তাহলে আলুর দাম আরও উঠতো। প্রতিদিন ৬৭০ ট্রাক করে আলু রাজ্যের বাইরে যাচ্ছে। আমাদের আলু বাইরে যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কোনও অসুবিধা নেই। যে যেরকম চাইবে সেরকম ভাবে আলু বাইরে নিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার বিজেপি অসহযোগীতার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"

    বেচারাম বলেন, "এখন নির্বাচন চলছে। তাই কোনও ফাইলে সই করতে গেলে নির্বাচন বিধির মধ্যে চলে আসে। তাই আমাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি কৃষকদের জন্য কৃষি বন্ধু, কৃষি বিমা, কিষান ক্রেডিট কার্ড, শস্য বিমা কৃষকের ফ্যামিলি একজন জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রকল্পগুলি কৃষকের বাড়িতে পৌঁছাচ্ছেন। তাই তিনি কৃষকদের হৃদয়ে রয়েছেন। বামফ্রন্টের আমলে ৩৪ বছরে প্রচুর কৃষক আত্মহত্যা করেছে। তখন সিপিএমকে চোখের জল দেখতে পাওয়া যায়নি। তখন তো বিজেপি ছিলই না। আর আজকে ১১ সালে পর থেকে রাজ্যে অভাবের তারণায় ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে কোনও কৃষককে আত্মহত্যা করতে হয়নি। আমরা চাইছি কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রী, প্রয়োজনীয় রেক দিক। কেন্দ্রীয় সরকার নেপাল বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা আলু পাঠান এবং রপ্তানি ব্যবস্থা করুক। এতে আলু চাষে মঙ্গল হবে।"
  • Link to this news (আজকাল)