বাবলু সাঁতরা, ঘাটাল
ভোট দিতে যেতে হবে। আবার তিন মাসের শিশুকে বাড়িতে একা রেখে যাওয়াও সম্ভব নয়। সাত-পাঁচ ভেবে স্নেহাকে কোলে নিয়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন কৃষ্ণা পাখিরা। ভেবেছিলেন, সকাল সকাল ভোটটা দিয়েই বাড়ি ফিরবেন। সেই মতো বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পৌঁছে গিয়েছিলেন ঘাটালের ৩৫ নম্বর জয়কুণ্ডু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে। বৈশাখের রোদ ততক্ষণে তেতে আগুন। ভোটের লাইনও বেশ দীর্ঘ। অগত্যা, রোদে-গরমে দুধের শিশুকে নিয়ে তিনিও সেই লাইনে দাঁড়ান।
ভোটকেন্দ্রের বাইরের ভিড়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি উজিয়ে হঠাৎ সংশ্লিষ্ট বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) সুদীপ্ত চক্রবর্তী দেখতে পান কৃষ্ণাকে। ওই মহিলা তখন প্রবল গরমে সন্তানকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সুদীপ্ত তড়িঘড়ি গিয়ে মায়ের কোল থেকে শিশুকে নিজের কোলে তুলে নেন। কৃষ্ণার ভোট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য যাচাই করে তাঁকে ভোটগ্রহণ কক্ষে পাঠিয়ে দেন। কৃষ্ণার ভোট দেওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি স্নেহাকে পরম স্নেহে কোলে নিয়েই থাকলেন।
বিএলও-র এমন আচরণের প্রশংসা করেছেন লাইনে দাঁড়ানো ভোটাররাও। তাঁদের একজন, সমর পাখিরা বলেন, 'এই গরমে ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কষ্টের। বিএলও সাহেব যেটা করলেন সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়।' বিএলও সুদীপ্ত জয়কুণ্ডু প্রাথমিক বিদ্যালয়েরই শিক্ষক। তাঁর কথায়, 'এই রোদে-গরমে সকলেরই খুব কষ্ট হয়েছে। হঠাৎ চোখে পড়ে, ওই মহিলা সন্তান কোলে খুব কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তার পরেই বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে ওই মহিলাকে ভোট দিতে পাঠাই। শিশুটি আমার কোলে দিব্যি ছিল। কান্নাকাটি করেনি।'
কৃষ্ণার স্বামী সমীর পাখিরা বেনারসে স্বর্ণশিল্পীর কাজ করেন। তিনি ভোট দিতে আসতে পারেননি। বাড়িতে আছেন স্নেহার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দুই মেয়ে- নেহা আর স্নেহা। নেহার বয়স দশ বছর। ছোট্ট স্নেহা মা ছাড়া কারও কাছে থাকতে চায় না। কৃষ্ণা বলছেন, 'বিএলও স্যরকে ধন্যবাদ জানিয়ে এসেছি। তিনি সহযোগিতা না করলে মেয়েটা ওই রোদে-গরমে খুব কষ্ট পেত।'