• EVM লুটের চেষ্টা, অভিযুক্ত বিজেপি
    এই সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, হলদিয়া ও তমলুক: নন্দীগ্রামে ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পরে ইভিএম লুট করার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল এই অভিযোগ তুলেছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামের - মহম্মদপুর মাদ্রাসা বুথের ঘটনা। নন্দীগ্রাম-১ নম্বর ব্লকের মহম্মদপুর মাদ্রাসায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে। কিন্তু ইভিএম নিয়ে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে উত্তেজনা তৈরি হয়। একটি গাড়িতে ২ জন যুবক হাজির হন ওই বুথে। তাঁরা নিজেগের নির্বাচন কমিশনের লোক পরিচয় দিয়ে ইভিএম নিয়ে যেতে চান। তাঁদের কথায় সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা পরিচয় জানতে চায়। কিন্তু তাঁরা সঠিক পরিচয় না দেওয়ায় ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে বাধ্য হয়। তাতে এক মহিলা জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে নন্দীগ্রাম-চণ্ডীপুর রাজ্য সড়কের রতনপুর বাস স্টপে স্থানীয় হরিপুর এলাকার বিজেপি কর্মী সমর্থকরা পথ অবরোধ করেন।

    তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত রায় বলেন, 'ইভিএম লুট করার জন্য বিজেপির লোকজন - মহম্মদপুর মাদ্রাসা বুথে গিয়েছিল। জানা যায়, তারা বিজেপি নেতা মেঘনাদ পালের নিরাপত্তারক্ষী। আসলে শুভেন্দু অধিকারী হেরে যাবেন বুঝেই ইভিএম লুটের চেষ্টা করেছেন। এই ঘটনার নিন্দা করছি।' বিজেপি শিবির অবশ্য ঘটনায় তৃণমূলের জুলুমবাজির অভিযোগ তুলেছে।

    বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় নেতা মেঘনাদ পাল বলেন, 'আমাদের এক এজেন্টকে মাদ্রাসা বুথ থেকে নিয়ে আসার জন্য আমাদের দুই যুবক গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ঘটনাকে রাজনৈতিক রং চড়িয়ে তৃণমূল উত্তেজনা তৈরি করে।' দুই যুবক পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

    এদিকে ময়নায় এদিন ভোট শেষ হলে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মারধর ও হামলার অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। ময়নার বাকচা অঞ্চলের আড়ংকিয়ারানা এলাকার ২৪১ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরে ইভিএম নিয়ে বেরনোর সময় তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট ও কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটে ও মারধরে অন্তত ১০ জন কর্মী জখম হন। আহতদের ময়না প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    এই ঘটনায় তৃণমূলের বাকচা অঞ্চলের কনভেনার গুরুপদ পাল জানান, ২৪১ নম্বর বুথে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে। ভোটের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎই বিজেপির কর্মীরা আক্রমণ চালায়। তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে বাড়ির মহিলাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। বিজেপি নেতা সৌমেন ধাড়া দাবি করেন, দলের নির্দেশ অনুযায়ী ইভিএম বহনকারী গাড়ির পিছনে বাইকে যাওয়ার জন্য তিনি ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। সেই সময় তৃণমূল কর্মীরা তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে তাঁর মাকে গালিগালাজ করে এবং অশান্তি করে। তিনি কিউআর টিমকে খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

  • Link to this news (এই সময়)