গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: বালুরঘাট বিধানসভা এবার পাখির চোখ তৃণমূল কংগ্রেসের। তাই বিজেপির হাত থেকে বিধানসভা পুনরুদ্ধার করতে তারা কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। বৃহস্পতিবার ভোটের দিন সকালেই বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে বেড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ। কোথাও নির্বাচনি এজেন্টকে ঢুকতে না দেওয়া, আবার বৈধ ভোটারের ভোটাধিকার না মেলার অভিযোগ। এমন নানা অভিযোগ পেয়ে কমিশনে নালিশ জানালেন অর্পিতা।
এদিকে আসন ধরে রাখতে সকালে নিজের বুথে ভোট দিয়ে গ্রাম এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেরালেন বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুৎ রায়। পাশাপাশি, সুকান্ত মজুমদারের বিধানসভা কেন্দ্র, সংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হলেও এলাকায় ঘুরতে পারবেন না বলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ। তাই তিনি নিজের বাড়িতেই ওয়ার রুম খুলে বসেন। সেখান থেকেই জেলাজুড়ে নজরদারি চালালেন। রাজ্যের জন্যও হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছেন। সেই নম্বরে কর্মীদের অভিযোগের ফোন পেয়ে বাড়ি বসেই দ্রুত ব্যবস্থা নেন সুকান্ত। সকাল সকাল বেরিয়ে পড়েছিলেন অর্পিতা। তিনি প্রথমে হিলির প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে যান। তিওরে কৃষ্ণা অষ্টমী হাইস্কুলে তৃণমূলের নির্বাচনি এজেন্টকে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এরপর সেই এজেন্টকে ভিতরে প্রবেশ করিয়ে দেন। হিলিতেই আরও দু’জনকে ভোটদানে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সরকারি চাকরি না করলেও তাঁদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট হয়েছে বলে জানানো হয়। সঙ্গে সঙ্গেই নিজের নির্বাচনি এজেন্টের মারফত কমিশনে অভিযোগ দায়ের করান অর্পিতা। এরপর ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়। পরে বালুরঘাট শহরের বিভিন্ন বুথে এবং আশপাশের গ্রামগুলি ঘুরে কর্মীদের অভিযোগ এবং ভোটারদের অভাব, অভিযোগ শুনে তিনি ব্যবস্থা নেন।
অর্পিতা বলেন, ভোর পাঁচটা থেকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছি। অনেক জায়গায় বুথের ভিতরে আলো কম ছিল। বসার জায়গা খুবই ছোট। কোথাও আবার আমাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সমস্ত কিছু কমিশনে জানিয়েছি।
অন্যদিকে, এদিন সকালেই বালুরঘাট শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর বুথে দুই মেয়ে এবং স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুৎ রায়। এরপর তিনি বালুরঘাট বিধানসভার গ্রাম এবং শহরগুলিতে চক্কর কাটেন। বিদ্যুৎ বলেন, অনেক জায়গায় আমাদের কর্মীদের ভয় দেখানো হয়েছে। বুথ জ্যামের চেষ্টা হয়েছিল। কমিশনে জানিয়েছি।
সুকান্ত বলেন, অনেক জায়গায় আমাদের কর্মীদের ভয় দেখানো, প্রার্থীকে মারধর করা হয়েছে। এসব করে লাভ হবে না। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে।
আরএসপি প্রার্থী অর্ণব চৌধুরী বিকেলে বালুরঘাট কলেজে ভোট দিয়ে বলেন, অনেক কর্মী ভোট দিতে গেলে বলা হয় হয়ে গিয়েছে। পোস্টাল ভোট নিয়ে আমরা আগেই অভিযোগ করেছিলাম। এদিন তা সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। কেউ যাতে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত না হন, সেই চেষ্টা করেছি।