নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বৃহস্পতিবার দুপুর দু’টো। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের গড়ালবাড়ি হাইস্কুলের বুথের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মঞ্জু বেগম। সাতমাসের অন্তঃসত্ত্বা। ‘ভোট দিয়েছেন?’ প্রশ্ন করতেই চোখ দু’টো বড় বড় করে বললেন, ভোট তো দিয়েছি। সঙ্গে ইভিএমের বোতাম টিপে এসআইআর হয়রানিরও জবাব দিলাম।
এসআইআর নিয়ে কেমন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে? সুর চড়িয়ে মঞ্জুর বক্তব্য, একাধিকবার ভোট দিয়েছি। অথচ এবার এসআইআরে স্বামীর নাম কাটা গেল। অনলাইন, অফলাইনে আবেদন করলাম। শ্বশুরবাড়ির অন্যদের নাম থাকলেও এবার আমার স্বামী ভোট দিতে পারল না। এর ‘বদলা’ নেব না ভাবছেন?
মঞ্জুর সঙ্গে কথা বলতে দেখে গড়ালবাড়ি হাইস্কুলের ১৮২ নম্বর বুথ থেকে ভোট দিয়ে বেরনোর পথে থমকে দাঁড়ালেন বছর ষাটের আমিনার রহমান। এসআইআর প্রসঙ্গ উঠতেই উগরে দিলেন একরাশ ক্ষোভ। বললেন, এই দেখুন, আমার বউমা অপু পারভীনের নামটা কেটে দিল ভোটার তালিকা থেকে। এত দৌড়ঝাঁপ করলাম, কিছুই হল না। নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে সবটাই বিজেপির কারসাজি। এর ফল ভুগতে হবে ওদের।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গড়ালবাড়ি অঞ্চলে ১৮২ নম্বর বুথে ১২২৮ জন ভোটার। ১০৭ জনের নাম বাদ পড়েছে এসআইআরে। এর মধ্যে ১০৩ জনই সংখ্যালঘু, এমনটাই দাবি স্থানীয় বাসিন্দা শামিম আলম, মহম্মদ শাহজাহানের। বললেন, আমাদের গোটা গ্রাম ফুঁসছে। বেশিরভাগ পরিবার থেকেই কারও না কারও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর যাঁরা ভোট দিয়ে এসেছেন, তাঁরা এবার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারলেন না। ৪ মে বিজেপি এর ফল হাড়ে হাড়ে টের পাবে।
গড়ালবাড়ি এলাকার সংখ্যালঘুদের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে এদিন বেশিরভাগ বুথের সামনে ক্যাম্পই করেনি বিজেপি। ছিল না পোলিং এজেন্টও। প্রচারপর্বেও সেভাবে দেখা যায়নি বিজেপিকে। ভোটের দিনও পদ্মপ্রার্থী পা রাখেননি এই অঞ্চলে।
শোভাগঞ্জ এলাকায় দেখা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। বললেন, এসআইআরে আমার পরিবারে পাঁচজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। হাবিবুর রহমানের তোপ, এর আগে পাঁচবার ভোট দিয়েছি। এবার নাম কেটে দেওয়া হল। সংখ্যালঘু বলেই যে আমার নাম বাদ গিয়েছে, তা বুঝতে বাকি নেই।
সাবিদুল ইসলামের অভিযোগ, করোনা মহামারীতে লকডাউনে যত না হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, তার চেয়ে এসআইআরে অনেক বেশি হয়রান করা হল। ইভিএমেই এর জবাব দিয়েছি।
জলপাইগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের দাবি, এসআইআরের নামে চরম দুর্ভোগে ফেলা হয়েছে। সবটাই বিজেপির চক্রান্ত, এটা বুঝেছে মানুষ। ফলে শুধু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা নয়, সর্বত্রই আমাদের ফল ভালো হবে। ভোটে এসআইআর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অবশ্য মন্তব্য করতে নারাজ জলপাইগুড়ির বিজেপি প্রার্থী অনন্তদেব অধিকারী। বলেন, এসআইআর নির্বাচন কমিশনের বিষয়। সব বুথে পোলিং এজেন্ট দিতে না পারা নিয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি বুবাই করের দাবি, সংখ্যালঘু এলাকায় কিছু বুথে আমরা পোলিং এজেন্ট বসাতে পারিনি।