• ‘গণহারে’ নাম বাদ দেওয়ার ‘বদলা’, ভোট দিয়ে বলছে মালদহের জনতা
    বর্তমান | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ভোটার তালিকা থেকে ‘গণহারে’ বাদ দেওয়া হয়েছে নাম। যা অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছে বহু মানুষকে। সঙ্গে সীমাহীন হয়রানি। এই পর্বে তৃণমূল কংগ্রেস বারবার অভিযোগ করেছে বিজেপির নির্দেশে সংখ্যালঘুদের উপর ‘কোপ’ মেরেছে নির্বাচন কমিশন। তাই ভোটপর্ব যেন হয়ে দাঁড়াল ‘বদলা’। বৃহস্পতিবার দিনভর ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এল তাঁদের সেই মনোভাব।

    বউমা ফিরদোসি বেগম। শাশুড়ি ফতিজা বিবি। মালতীপুরের চন্দ্রপাড়ার বাসিন্দা। দু’জনই এদিন বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ গোয়ালপাড়া পূর্ব-পশ্চিম হাইস্কুলের ১০৯ নম্বর বুথে আসেন। বউমা যখন ভিতরে ভোট দিচ্ছেন, বাইরে দাঁড়িয়ে শাশুড়ি আক্ষেপ করে বলেন, দু’বছর আগে আমরা একসঙ্গে লোকসভা ভোট দিয়েছি। এসআইআরে আমার  নাম বাদ পড়েছে। তাই ভোট দিতে পারলাম না।  

    এই বুথের বাইরে টোটো চাপিয়ে বাড়ির পাঁচ সদস্যক ভোট দিতে নিয়ে আসেন আশরাফুল সেখ। তিনি গোয়ালপাড়ারই বাসিন্দা। বাড়ির সদস্যরা ভিতরে ভোট দিতে ঢুকলেও আশরাফুল বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা একান্নবর্তী পরিবার। বাড়িতে ১৮ জন সদস্য। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, এসআইআরের পর পরিবারের মাত্র পাঁচ সদস্যকে বৈধ ভোটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বাকি ১৩ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। 

    শুধু মালতীপুর নয়, মালদহ জেলার ১২টি বিধানসভাতেই এসআইআরের হয়রানির জবাব ইভিএমে দিয়েছে জনতা। সকাল ৭টা থেকেই প্রত্যেকটি বুথের বাইরে ছিল ভোটারদের লম্বা লাইন। যেখানে সব থেকে বেশি নজর কেড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাঁদের কথায়, এই ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর জন্য ডিসেম্বর মাস থেকে দফায় দফায় লাইনে দাঁড়িয়ে রীতিমতো হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। নিজেদের এবং বাবা মায়ের বৈধ নথি দেওয়ার পরও প্রথমে শুনানির লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তারপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে। অনেকের নাম আবার এখনও ওঠেনি। এজন্য বারবার কাজ ফেলে ভিনরাজ্য থেকে ছুটে আসতে হয়েছে। তাই এবার সকাল সকাল ভোটটা দিয়ে মন শান্ত করলেন। ইংলিশবাজার কেন্দ্রের কোতওয়ালি অঞ্চলের এক পরিযায়ী শ্রমিক বলেন, ভোট দিলাম। এই ভোট হয়রানির বদলার ভোট। 

    এদিন সকাল থেকেই মালদহ জেলা জুড়ে দাপিয়ে ভোট করায় তৃণমূল কংগ্রেস। বরং সেই অর্থে একটা সময়ের পর থেকে বিজেপি প্রার্থীদের আর দেখা যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর থেকেই ভোটের ফলাফল আন্দাজ করা যায়। 

    মালদহে এদিন একাধিক বুথে সকাল থেকেই ইভিএম খারাপের খবর আসে। ইভিএম খারাপ থাকায় ভোট দেরিতে শুরু হওয়ায় মোথাবাড়ি বিধানসভার বালুয়াচরা হাইস্কুলের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে রীতিমতো হেনস্তার শিকার হন সেক্টর অফিসার। হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৭টি বুথে ইভিএম খারাপ হয়। দ্রুত অবশ্য সেগুলি বদলে দেওয়া হয়। এদিন বেলা ৩টে নাগাদ বুথের ভিতর অসুস্থ হয়ে পড়েন গাজোল কেন্দ্রের ১৩৭ নম্বর বুথের ভোটকর্মী জয়শ্রী কর্মকার। তড়িঘড়ি তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় গাজোল স্টেট জেনারেল হাসপাতালে।
  • Link to this news (বর্তমান)