জয় নিশ্চিত, আত্মবিশ্বাসী মানবাজারের সন্ধ্যারানি ও বান্দোয়ানের রাজীব লোচন
বর্তমান | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বাপ্পা রায়, মানবাজার: ভোরের কুয়াশা কাটতেই ভোটের লাইনে দেখা গেল লম্বা লাইন। মানবাজার ও জঙ্গলমহলের বান্দোয়ানে বিভিন্ন বুথের সামনে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল সকাল ভোট দিয়ে বাড়ির কাজ শুরু করার পণ যেন তাঁরা নিয়েছিলেন। তাছাড়া গরমের দাপট থেকে বাঁচার জন্যও অনেকে সূর্যদেব ওঠার আগেই নিজের বুথের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। ভোটারদের এই উৎসাহ দেখেই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মানবাজারের প্রার্থী সন্ধ্যারানি টুডু এবং বান্দোয়ানের প্রার্থী রাজীব লোচন সোরেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মানবাজারের একাধিক বুথে ভোটারদের ভিড় দেখা যায়। বাসুডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৩৫ নম্বর বুথে দীর্ঘ লাইন পড়ে। নারী ও পুরুষ উভয় লাইনে ছিল সমান ভিড়। রোদের হাত থেকে বাঁচতে অনেককে ছাতা হাতে দাঁড়িয়েছিলেন। মানবাজারের আরএমআই স্কুলের ২৪৬ নম্বর বুথটি আদর্শ ভোটগ্রহণ কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হয়। সেখানে সেলফি তোলার ব্যবস্থা ছিল। সকালে সেখানে ব্যাপক ভিড় হলেও দ্রুত ভোট প্রক্রিয়ার ফলে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কিছু জায়গায় ইভিএম সমস্যার খবরও পাওয়া যায়। বড়তোড়ের ২৭৩ নম্বর বুথে ইভিএম গোলযোগের কারণে ভোটগ্রহণ শুরু হতে দেরি হয়। মানবাজার নামপাড়াতেও একই সমস্যা দেখা দেয়। ইচাডি প্রাথমিক স্কুলের ২৬৫ নম্বর বুথে ইভিএমে ত্রুটি ধরা পড়লেও পরে তা ঠিক করা হয়।
বিশরি বুথে ভোট দিতে এসে যুধিষ্ঠির মাহাত বলেন, শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হচ্ছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। চিরুডি গ্রামের মালতি মাহাত হেঁটে ভোট দিতে এসে বলেন, ভোট দেওয়া জরুরি, তাই দূরত্ব হলেও ইচাডি গ্রামের বুথে ভোট দিতে এসেছি।
দোলদেড়িয়া প্রাথমিক স্কুলের বুথে তীব্র রোদের মধ্যেও শিশুদের কোলে নিয়ে মহিলাদের ভোট দিতে আসতে দেখা যায়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ভোটারদের জলখাবার দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। তৃণমূলের কর্মী মনোহর হাঁসদা বলেন, এদিন কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই ভোট দিতে এসেছেন। তাই তাঁদের জন্য এই উদ্যোগ। বিজেপির কর্মী নরোত্তম হাঁসদাও একই মত প্রকাশ করেন।
এদিন শাসক থেকে বিরোধী প্রার্থীদের বিভিন্ন বুথে ঘুরে ভোট তদারকি করতে দেখা যায়। মানবাজারের তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যারানি টুডু কাদলাগড়া জুনিয়র হাই স্কুলের ২০৩ নম্বর বুথে ভোট দেন। তিনি বলেন, সকাল থেকেই মানুষের উৎসাহ চোখে পড়েছে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী খুবই সক্রিয় ছিল। যেন তারাই ভোট করাচ্ছে। আমরা ২০০ শতাংশ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বিজেপি প্রার্থী ময়না মুর্মু বলেন, কিছু জায়গায় ইভিএম ইচ্ছাকৃতভাবে অন্ধকার করে রাখা হয়েছিল। যাতে ভোটাররা অসুবিধায় পড়েন। তবে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। সিপিএম প্রার্থী শান্তিমণি মুর্মুও বলেন, সব বুথে আমাদের এজেন্ট রয়েছে। ভোট ভালো হয়েছে।