• নাগরিকত্ব: মতুয়াদের বিশ্বাসভঙ্গে ভীত বিজেপি, ড্যামেজ কন্ট্রোলে মরিয়া মোদি
    বর্তমান | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: এসআইআরের কারণে ভোটাধিকার হারিয়েছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের কয়েক লক্ষ নারী-পুরুষ। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেই ভোটার তালিকায় নাম থাকবে! বিজেপির এই প্রতিশ্রুতি কতটা মিথ্যে ছিল, দ্রুত বেআব্রু হয়ে পড়েছে তাও। প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গের আবহেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ ব্রতী প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। তাঁর সরকারের তরফে নাগরিকত্ব প্রদানের কাজে‌ গতি আনার আশ্বাস দিলেন নরেন্দ্র মোদি। আওড়ালেন অনুপ্রবেশকারী বিতাড়নের পুরানো তত্ত্বও। কিন্তু সে-কথা শোনার লোক কোথায়? অতীতে প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে মতুয়াদের ভিড় ও বিপুল উৎসাহই নজর কাড়ত। সেখানে বৃহস্পতিবার প্রথম দফা নির্বাচনের দিন এবং দ্বিতীয় দফা ভোটের প্রাক্কালে নদীয়ায় কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ মাঠে তাঁর জনসভা ফিকেই দেখাল। উপস্থিতি নিয়ে মতুয়াদের এই নিষ্ক্রিয়তা ভোটব্যাংক ভেঙে খান খান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে পদ্ম শিবিরের। 

    সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত কলেজের গেট দিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মাত্র দুটি গোষ্ঠীকেই সভাস্থলে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। প্রতি গোষ্ঠীতে ১০-১৫ জন সদস্য ছিলেন। তেহট্ট থেকে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে ঢোকার সময় মতুয়া সম্প্রদায়ের রাহুল বৈদ্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে এসেছি আমরা। স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অংশগ্রহণ করেছি। এবার আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ কম এসেছেন। অনেকের নাম কাটা গিয়েছে বলেই হয়তো এই অবস্থা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সকলের নাম সিএএর মাধ্যমে তুলে দেবেন। আমরা সেটা বিশ্বাস করি।’ 

    তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ চলাকালেও সভাস্থলে মতুয়াদের লালধ্বজা চোখে পড়েনি। শোনা যায়নি ডঙ্কার আওয়াজ। রাজনৈতিক মহলের দাবি, মতুয়াদের ‘প্রতারণার’ আঁচ পড়েছে জনসভাতেও। এমনকি, মোদির বক্তব্য শুরু হতেই তাঁকে একঝলক দেখে পিছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে বহু কর্মী-সমর্থককে। 

    নদীয়া জেলার সুদীর্ঘ এলাকা বাংলাদেশের সঙ্গে সীমানা ভাগ করে নেয়। বেশকিছু জায়গায় কাঁটাতার নেই। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলছে। কিন্তু তৃণমূলের পালটা দাবি, সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব কেন্দ্রের। এই প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ‘সীমা তখনই সুরক্ষিত হয় যখন পুলিশ, মানুষ এবং বিএসএফ একসঙ্গে কাজ করে। ৪ মে’র পর সেটাই হবে।’

    এরপরই মতুয়াদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর আর বড়োমাকে প্রণাম করে একটা ভরসা দিতে চাই—কোনো মতুয়া, নমঃশূদ্র, শরণার্থী পরিবারের কাউকে তৃণমূলের ভয় পেতে হবে না। কেউ আপনাদের গায়ে হাত দিতে পারবে না। যারা শরণার্থী, ধর্মীয় কারণে ভারতে এসেছিলেন, তাঁদের পাশে আমি আছি। বাংলায় বিজেপি সরকার হলেই সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ গতি পাবে। সমস্ত কাগজ এবং প্রকল্পের সুবিধা তাঁরা পাবেন, যেটা সকল ভারতীয় নাগরিক পান। এটা মোদির গ্যারান্টি।’

    প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আপনারা জানেন মোদির কথা, সবকা সাথ সবকা বিকাশ। তৃণমূল বলছে, ঘুসপেটিয়া কা সাথ ঘুসপেটিয়া কা বিকাশ। তৃণমূলের লোক ঘুসপেটিয়াদের ভুয়ো নথি বানানোর দোকান চালায়। ঝুপড়িতে থাকার জায়গা দেয় ঘুসপেটিয়াদের। তৃণমূলের দোকান বন্ধ করতে হবে।’

    আত্মবিশ্বাসের সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৪ মে বাংলায় বিজেপিরই বিজয় হবে। ভয় ভাঙবে, ঝালমুড়ি বিলি করা হবে। ঝালমুড়ি কাউকে কাউকে ভালো ঝটকা দিয়েছে। মুড়ি খেয়েছি আমি আর ঝাল লেগেছে তৃণমূলের! এখানে তৃণমূল নেতা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষুব্ধ। তৃণমূলের পতন নিশ্চিত। ১৫ বছর আগে মানুষ হারিয়েছেন বামেদের। তৃণমূলের জঙ্গলরাজের বিরুদ্ধে, আমরা লড়ছি না, মানুষ লড়াই করছেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)