সুখেন্দু পাল, দুর্গাপুর: তখনও ভোট গ্রহণ শুরু হয়নি। ভোট কর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সকাল ৬টাতেই দুর্গাপুরের হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহিলাদের তিনটি লাইন। সেই লাইনে সদ্য ১৮ পেরনো তরুণী যেমন ছিল তেমনই দেখা মিলল ৬২ বছরের বৃদ্ধারও। যত সময় গড়িয়েছে লাইন তত দীর্ঘ হয়েছে। এই ছবি শুধু দুর্গাপুরেই নয়, সর্বত্রই। পাণ্ডবেশ্বরের কেন্দরা, রামনগরে দেখা গেল মহিলাদের ভিড় বেশি। মহিলাদের এই উচ্ছ্বাসই ঘুম কেড়ে নিয়েছে বিজেপির। ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর অনেকের মুখেই ‘দিদি’র ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছে। শিবানী দে নামে একজন ভোটার বলেন, দিদি মহিলাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। মেয়েরা ভালই আছি। সেই কারণে সকাল সকাল এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছি। আর এক ভোটার রেখা দাস বলেন, ভোট দেব বলে ভোর ৪টের সময় উঠেছি। বাড়ির কাজ সেরে সকাল ৬টাতেই বুথে হাজির হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম তাড়াতাড়ি ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে যাব। ভোট কেন্দ্রে এসে দেখি আমার মতো বহু মহিলা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এবারের ভোটটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। বাইরে থেকে অনেকে এসে বাংলার বিরুদ্ধে নানা কথা বলছে। সে সবকিছুর প্রতিবাদ জানাতেই এসেছিলাম।
দুর্গাপুরের সিধু কানু স্টেডিয়ামের মডেল বুথ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সকাল থেকেই মহিলাদের ভিড় ছিল। এই এলাকায় মূলত এলিট ক্লাসের ভোটারদেরই বসবাস। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক মহিলা ভোটার বলেন, ভোট কাকে দিচ্ছি সেটা বলব না। কিন্তু, এটা বলতে পারি বাংলার বিরুদ্ধে যেসব কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে তা ঠিক নয়। আমার মেয়ে দিল্লিতে থাকে। মাঝেমধ্যে সেখানে যাই। অনেকেই বাংলা সম্পর্কে নানা রকমের মত প্রকাশ করে। যে ধারণা বাইরে লোকজনের মধ্যে রয়েছে, তা ঠিক নয়। বাংলায় অনেক কিছুই হয়েছে। তবে নিশ্চয়ই কিছু সমস্যা রয়েছে। তাই বলে এভাবে একটা রাজ্যকে সারা দেশের সামনে ছোট করার অধিকার কারও নেই। যারা কুৎসা রটাচ্ছে বাংলার মানুষ তাদের বিরুদ্ধে ভোট দেবে।
স্থানীয়রা বলেন, বিগত ভোটগুলির চেয়ে এবারই প্রথম সকাল থেকে মহিলাদের এভাবে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেশি। সাধারণত বাড়ির কাজ সেরে তারপর মহিলারা ভোট কেন্দ্রে আসেন। কিন্তু, এবার সব কাজ ছেড়ে তাঁরা আগে ভোট দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে অতীতের ভোটে দেখা গিয়েছে, মহিলাদের বড় অংশই তৃণমূলের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। তাই এই ভিড় তাদের মনোবল অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্ধমান-দুর্গাপুরের সংসদ কীর্তি আজাদ ভোট দিয়ে বলেন, বাংলার মা-বোনরা বিজেপির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। দিদি তাঁদের জন্য অনেক প্রকল্প করেছে। সব সময় তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাই তাঁরা সকাল সকাল ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে যোগ্য জবাব দিয়েছেন। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘরুই অবশ্য বলেন, ভোটের ফলাফল কী হতে চলেছে ভোটারদের এই লম্বা লাইন তৃণমূলকে বুঝিয়ে দিয়েছে। তাদের পরাজয় নিশ্চিত।