• শান্তিনিকেতনে ভোট দিতে গিয়ে হয়রানি নন্দলাল বসুর নাতির
    বর্তমান | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বোলপুর: দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন ও তাঁর পরিবার। তবে বৃহস্পতিবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েও ঝক্কির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। এদিন সকালে শান্তিনিকেতনের স্টাফ ক্লাবে ভোট দিতে যান বছর ৮৮-র সুপ্রবুদ্ধ সেন, তাঁর স্ত্রী দীপাদেবী এবং পরিবারের সদস্য চক্রধর নায়েক। সদ্য প্রকাশিত সংশোধিত ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকা সত্ত্বেও প্রথমে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বুথে তাঁদের জানানো হয়, সিউড়ি থেকে অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। সমস্ত বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে থাকলেও তাঁদের দু’বার ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

    জানা গিয়েছে, এই ঘটনার সূত্রপাত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় থেকে। তখন তাঁদের নাম ‘বিবেচনাধীন’ রাখা হয়। পরে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা বাড়িতে গিয়ে নথি যাচাই করেন। সেখানে মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখানো হলেও চূড়ান্ত তালিকায় নাম ওঠেনি। বিষয়টি সামনে আসতেই প্রশাসনের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁদের ফর্ম-৬ পূরণ করানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সমস্যার সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে বুধবার প্রকাশিত নতুন ভোটার তালিকায় তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, নাম ওঠা সত্ত্বেও তাঁদের সঙ্গে প্রশাসন যোগাযোগ করেনি। ফলে বিভ্রান্তি থেকেই যায়। এদিনে ভোট দিতে গিয়ে সেই বিভ্রান্তির জেরেই সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। পরে ঘটনাটি জানাজানি হতেই প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। শেষ পর্যন্ত বিকালে তাঁদের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়। ভোট দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা। চক্রধরবাবু বলেন, শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পেরে ভাল লাগছে। কিন্তু অকারণে যে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হল, তা এড়ানো যেত। সুপ্রবুদ্ধবাবু বলেন, আমার ৮৮ বছর বয়স, এত সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে ভাবিনি। শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারলাম।
  • Link to this news (বর্তমান)