বাইক বন্ধের সিদ্ধান্ত: তুলোধোনা করে কমিশনের হলফনামা চাইল হাইকোর্ট
বর্তমান | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার বাইকে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় কমিশনকে কার্যত তুলোধোনা করল হাইকোর্ট। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা রীতিমতো হলফনামা দিয়ে কমিশনকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি কৃষ্ণা রবের সিঙ্গল বেঞ্চ।
ভোটের দুদিন আগে বাইকের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দিনদুই আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। তাদের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। বৃহস্পতিবার ছিল তার শুনানি। আর সেখানেই কমিশনকে একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। কমিশনের এহেন সিদ্ধান্তকে রীতিমতো ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিচারপতি রাও।
এদিনের শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘অযৌক্তিকভাবে সবকিছু থামিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে! কেন ভোটের দুদিন আগে থেকে বাইক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, হলফনামা দিয়েই তা জানাতে হবে কমিশনকে।’ এদিন বিচারপতি রাও কমিশনকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের কর্তৃপক্ষ কেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছে না? দুদিন আগে থেকে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে ভোট করাক। তা না-হলে মানতে হবে যে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ। এইভাবে সাধারণ নাগরিকের অধিকার হরণ করা যায় না। আপনাদের কর্তৃপক্ষকে এটা বোঝাতে পারছেন না কেন? শুধু বাইক কেন, তাহলে গাড়িও বন্ধ করে দিন। তাতেও তো লোকজন বোমা, অস্ত্র প্রভৃতি নিয়ে গিয়ে গোলমাল পাকাতে পারে।’
নির্বাচনের সময় সমস্তটাই থাকে কমিশনের আওতায়। নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তই একতরফা এবং কারণ ছাড়া যে নেওয়া যায় না, তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি। কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি আরো বলেন, ‘কোর্টকে দেখান, গত পাঁচবছরে কত বাইকের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে, কত ক্ষেত্রে বাইকবাহিনীর গোলমাল পাকানোর নজির আছে।’
এরপরই বিচারপতি বলেন, ‘দুদিন আগে থেকেই সবকিছু স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে! এটা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। আপনারা নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। যেহেতু ভোটের সময় আপনাদের ক্ষমতা বা এক্তিয়ার রয়েছে, তার অপব্যবহার করছেন।’ বিচারপতি কমিশনকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘কমিশনের ক্ষমতা আছে বলে যা-খুশি করা যায় না। নাগরিককে হেনস্তা করা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার জন্য হলেও মানা যায়, এখানে ৭২ ঘণ্টার বেশি! আপনাদের পুলিশ-প্রশাসন আছে, সিসিটিভি আছে তাহলে এগুলোর দরকার কী? সব বন্ধ করে দিন। অযৌক্তিকভাবে এতদিন ধরে সবকিছু থামিয়ে রাখার চেষ্টা!’
২০২৬ সালের নির্বাচনে কমিশন একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে জল গড়িয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত। একাধিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কমিশন বারবার আদালতের রোষের মুখে পড়েছে। তার মধ্যে সাম্প্রতিকতম দৃষ্টান্ত হল বাইক বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই মামলার ফের শুনানির সম্ভাবনা আজ শুক্রবার।