বাইরে থেকে লোক এনে হাওড়ায় রোড শো মোদির, নাকাল যাত্রীরা
বর্তমান | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
সুদীপ্ত কুণ্ডু ও স্বপন দাস, হাওড়া ও কাকদ্বীপ: বাইরে থেকে লোক এনে ভিড় বাড়ানো, জমায়েত সামলাতে মহিলাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, দুপুর থেকেই ব্যস্ততম জিটি রোড কার্যত অবরুদ্ধ— বৃহস্পতিবার হাওড়া শহরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রোড শো’কে ঘিরে সামনে এল বিশৃঙ্খলা ও বিতর্কের একাধিক ছবি। উত্তর হাওড়া ও বালিতে শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য থাকলেও, বিজেপির গোটা আয়োজন আখেরে ‘ফাঁকা কলসি’ বলেই মনে করছেন অনেকে।
বালি ও উত্তর হাওড়ার বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে এদিন কার্যত দুর্গসম নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে এসপিজি। দুপুর ১টা থেকেই জিটি রোডে বাস-অটো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তীব্র গরমে দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বহু মানুষকে। বিকাল ৫টা নাগাদ বেলুড় মঠে পুজো দিয়ে রোড শো শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি হাওড়া জেলার ১৬টি কেন্দ্রের প্রার্থীরা। রোড শো’র ভিড় নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, জিটি রোডের দু’পাশে ব্যারিকেডের ফাঁকা অংশ পূরণ করতে হাওড়ার গ্রামীণ এলাকা ও হুগলি থেকে বাস বোঝাই করে লোক আনা হয়। লোকচক্ষুর আড়ালে লিলুয়ার রেলের মাঠে সেই বাসগুলিকে পর্কিং করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। হুগলির ধনেখালি থেকে আসা সুকুমার বৈদ্য ও আশিস সরকার বলেন, ‘জনসভায় গেলে জলের বোতল আর খাবার প্যাকেটের সঙ্গে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়। তবে আজ মোদিজিকে দেখতে এসেছি বলে টাকা নিইনি।’
ভিড় সামলাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ মানুষের। অভিযোগ, রোড শো শুরুর আগে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাদের রীতিমতো ধাক্কা দিয়ে ব্যারিকেডের ওপারে সরিয়ে দেওয়া হয়। ক্ষুব্ধ অবাঙালি মহিলাদের অনেকেই বলেন, ‘মোদিজিকে দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু এভাবে ধাক্কাধাক্কি হবে ভাবিনি। নারী সুরক্ষার কথা ওনারা কোন মুখে বলেন?’ ভিড়ের মধ্যে থাকা এক বাঙালি মহিলার কথায়, ‘এত আয়োজন দেখলাম, কিন্তু মানুষের সঙ্গে সংযোগ কোথায়? কিছুদিন আগেই দিদির পদযাত্রায় অন্য ছবি দেখেছি।’ সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ সালকিয়া চৌরাস্তায় রোড শো শেষ হলেও পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা তার প্রভাব পড়ে গোটা এলাকায়। বালি থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে স্তব্ধ হয়ে যায় জিটি রোড। সেই যানজটে আটকে পড়ে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘এভাবে রাস্তা বন্ধ করে রাখলে সাধারণ মানুষের জীবনই তো থমকে যায়। জরুরি পরিষেবার কথাও ভাবা হয়নি।’
এদিকে, কাকদ্বীপে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরেও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফাঁকা মাঠের বদলে ঘেরা স্টেডিয়াম বেছে নেওয়া হলেও সেখানে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ঠেলাঠেলির পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যারিকেডের ভিতরে মহিলাদের বসার জায়গা করা হলেও সেখানে আচমকা পুরুষরা ঢুকে পড়ায় বিশৃঙ্খলা বাড়ে এবং আতঙ্কে অনেক মহিলা সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। বিজেপি নারী সুরক্ষার বিষয়টি সেভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি বলেই মত উপস্থিত মহিলাদের।